নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিন্ডিকেট।
সোমবার ও মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৫তম সভায় জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এতে নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার দায়ে উপাচার্য শিরীণ আখতারের সাবেক সহকারী খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীনকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রারে পদাবনতি দেওয়া হয়।
এছাড়া উপাচার্য দপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক নিয়োগের ফাইল হারানোর দায়ে পদাবনতি ও বদলির সুপারিশও করা হয়।
হিসাব নিয়ামক দপ্তরের কর্মচারী আহমদ হোসেন, বিজ্ঞান ওয়ার্কশপের সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী হাদী মো. রশিদ এবং রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তা সেলের নিম্নমান সহকারী মানিক চন্দ্র দাশকে বরখাস্ত করা হয়।
সিন্ডিকেট সদস্য নঈম হাসান আওরঙ্গজেব চৌধুরী বলেন, খালেদ মিসবাহুল এবং আহমদ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে ফৌজদারি আইনে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। তবে মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিনকে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে ফাইল হারানোর দায়ে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের জন্য খালেদ মিছবাহুল ও কর্মচারী আহমদ হোসেন তিনজন নিয়োগপ্রার্থীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন এমন একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। তাদের অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় খালেদ মিছবাহুলকে পদাবনতি ও আহমদ হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়।
এরপর, গত বছর আগস্টে কর্মচারী নিয়োগের জন্য মানিক চন্দ্র দাশের বিরুদ্ধে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যাগ। এ ঘটনায় দু’দফায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে তার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।
২০১৮ সালে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক প্রার্থীর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কর্মকর্তা হাদী মো. রশিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২০২১ সালে তিন সদস্যের গঠিত একটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী হাদী মো. রশিদকে বরখাস্তের সুপারিশ করে সিন্ডিকেট।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক নিয়োগপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংক্রান্ত ফাইল উপাচার্য দপ্তর থেকে হারিয়ে ফেলায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিনকে উপাচার্য দপ্তর থেকে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।







