সিলেট থেকে: বিপিএল সিলেটপর্বের প্রথমদিকে টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ ছিল না প্রত্যাশীদের। তবে দুদিন না পেরোতেই টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। টিকিট প্রত্যাশীরা বলছেন, কাউন্টারে নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকিট দেয়ার পরও তারা পাচ্ছেন না। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কাউন্টারের বাইরে পাওয়া যাচ্ছে টিকিট। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
বৃহস্পতিবার সিলেটপর্বের তৃতীয় দিনের খেলা গড়িয়েছে। এদিনে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাউন্টারে টিকিট না পাওয়ায় দর্শকদের আক্ষেপ দেখা গেছে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
সিলেট দর্শক ফোরামের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে একজন টিকিট প্রত্যাশী কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে। তার অভিযোগ, কাউন্টারে টিকিট না দিয়ে বাইরে বেশি দামে টিকিট দেয়া হচ্ছে। বলেছেন, ‘বিগত কয়েকদিন ধরে কাউন্টারে ছিলাম, তারা একশ টিকিট বা দুইশ টিকিট কাউন্টারে দেয়। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তারা টিকিট দিয়েছে প্রায় পনেরশ-দুই হাজার। আর এখানে একশ-দুইশ টিকিট দিয়ে বলে নাই। এখানে ওরা টিকিট বাড়তি দামে বাইরে ছেড়ে দিচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এখানে ১৫০ টাকার একশটা টিকিট দিয়ে বলে আর নাই। অনেকে ফজর নামাজের পর থেকে টিকিট নেয়ার জন্য এসেছে। কাউন্টার টিকিট দিচ্ছে না। বলে তিনটার সময়, আবার বলে ৫টার সময়। এভাবে ঘোরাচ্ছে।’
টিকিট প্রত্যাশী আরেক দর্শক প্রশ্ন তুলেছেন কাউন্টারে বিসিবির দেয়া টিকিটগুলোর হদিস নিয়ে। শুক্রবারের টিকিট নিতে সকাল থেকে অপেক্ষা করছেন তিনি। তবে বিকেল হয়ে এলেও টিকিট পাননি তিনি। বেশ কয়েকবার কাউন্টারে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছেন। তার দাবি, কাউন্টারের জন্য বরাদ্দ টিকিটের সংখ্যা এবং অবিক্রিত টিকিট সংখ্যা যেন কিছু সময় পরপরই জানানো হয়। বলেছেন, ‘সকাল থেকে অপেক্ষা করছি, এখনও টিকিট পাইনি। পনেরশ-দুই হাজার টিকিট দিছে, দু-তিনশ টিকিট দেয়ার পর বাকিগুলো কই যায়? বিসিবির কাছে আমার আবেদন, কাউন্টারগুলোতে কয়টা টিকিট দিচ্ছে তা যেন কাউন্টারে লাগিয়ে দেয়া হয়, আর একঘণ্টা পরপর কয়টা টিকিট অবিক্রিত আছে তা যেন জানায়। সকলের টিকিট পাওয়ার অধিকার আছে, আমাদের সিলেটের মাটিতে সিলেটের খেলায় আমরা যদি টিকিট না পাই, এটা আমাদের জন্য আক্ষেপজনক।’

মধ্যবয়সী এক দর্শক অনলাইনে টিকিট কাটতে না পেরে কাউন্টারে এসেছেন কিনতে। তিনিও টিকিট না পেয়ে হতাশ, বাইরে থেকে বেশি দামে টিকিট কিনেছেন। বললেন, অনলাইনে টিকিট কাটতে পারি না। কালকে সময় পাইনি এসে টিকিট কাটতে। আজকে সকাল থেকে অপেক্ষা করেছি। ১৫০০-২০০০ টাকার টিকিট আছে। কিন্তু আমার তো অত টাকা দিয়ে টিকিট কেনার সামর্থ্য নেই। পরে বাইরে থেকে ১৫০ টাকার টিকিট ৩৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি।
এদিকে কাউন্টারের দায়িত্বরতরা টিকিট বেশি দামে বাইরে বিক্রির বিষয়টি ভিত্তিহীন বলেছেন। তাদের দাবি, বিসিবি থেকে তাদের কাছে যতগুলো টিকিট দেয়া হয় তা পর্যায়ক্রমে আসে। একারণে দর্শকদের টিকিট পেতে অপেক্ষা করতে হয়। তাছাড়া গ্র্যান্ডস্টান্ডের টিকিট ছাড়া বাকি টিকিটের চাহিদা বেশি। তাই সেগুলো দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় অনলাইনে ঢু মেরে দেখা গেছে এখনও দিনের টিকিট অবিক্রিত রয়েছে। অবশ্য সেটি গ্র্যান্ডস্টান্ড ও ক্লাব হাউজের। শুক্রবারের দুটি ম্যাচের কেবল গ্র্যান্ডস্টান্ডের টিকিট অবিক্রিত রয়েছে। বাকি সকল টিকিটই ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।








