ভারতের মিজোরামে আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু। রাজ্যটির বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন মারা যাচ্ছে শত শত শূকর। একই সাথে প্রতিদিন জবাই করে আরও অন্তত ২০০ শূকরকে হত্যা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রতিবেশী অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকেও শূকর আমদানি নিষিদ্ধ করেছে রাজ্যটি।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) মিজোরামের পশুপালন ও ভেটেরিনারি (এএইচভি) বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানিয়েছে, আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের কারণে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাজ্যে প্রায় ৫৪৪০ শূকরের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত আরও প্রায় ১০ হাজার ৩০০ শূকরকে জবাই করা হয়েছে। এই মুহূর্তে ২০ কোটিরও বেশি লোকসানের মুখে রাজ্যের শূকর চাষিরা।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মিজোরামের আইজল, চাম্পাই, লুংলেই, খাওজাওল, সেরচিপ জেলার মোট ১৬০ টিরও বেশি গ্রামে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। এএইচভি’র পক্ষ থেকে কয়েকটি গ্রামকে সংক্রমিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
মিজোরামে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু প্রথম ধরা পড়ে ২০২১ সালের মার্চে। বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত লুংলেই জেলার লুংসেন গ্রামে। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই এক বার করে রোগটির আবির্ভাব ঘটে। এই রোগে ২০২১ সালে ৩৩ হাজার ৪২০, ২০২২ সালে ১২ হাজার ৮০০ এবং ২০২৩ সালে ১ হাজার ৪০ টি শূকরের মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্শ্ববর্তী দেশ ও রাজ্য থেকে আক্রান্ত শূকর অথবা শূকরের মাংস আমদানি থেকেই এই বিপত্তি।
শূকরের মাংস সারা উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়েই জনপ্রিয়। যে কারণে এই প্রাণী সেখানকার জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জুড়ে রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে শূকরের মাংসের ব্যবসা থেকে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা আয় হয়। সেই ব্যবসাই আপাতত লোকসানের মুখে।
সরকার এখন পর্যন্ত কয়েকশোরও বেশি শূকর চাষির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। সংক্রমণ রুখতে মিজোরামে আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে শূকর ও শূকরের মাংস সরবরাহের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।







