দেশের সংবিধান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ১৯টি প্রস্তাব করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে এসব প্রস্তাব রেখেছেন সুজন।
রোববার (১১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব দেয়া হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফলতা কামনা করে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি। একইসঙ্গে যারা নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আমাদের তরুণদের আকাঙক্ষা হলো- অতীতে যা ঘটেছে তা যেন আবার ফিরে না আসে। অন্যায়, অবিচার, লুটপাট, গুম-খুন যেন আর না হয়।
তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায়-অবিচার করেছে, ফৌজদারি অপরাধ করেছে এবং আর্থিক খাতে দুর্নীতি করেছে স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করে তাদের যেন বিচার হয়।
বদিউল আলম বলেন, সংস্কারের জন্য সূদূরপ্রসারী কতোগুলো পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলাপ করে আমাদের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি নাগরিক সনদ প্রণয়ন করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো কথা দিয়ে কথা রাখে না। ২০০৮ সালে দিনবদলের সনদ ঘোষণার পরও আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছিল, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের বিস্তার ঘটেছিল। এই সরকার যদি একটি নাগরিক সনদ প্রণয়নে উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা আশস্ত হতে পারি যে অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ছাত্র-জনতা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, পাড়া-মহলা পাহারা দিচ্ছে তা অভূতপূর্ব। আমি মনে করি, রাষ্ট্র গঠন ও উন্নয়নে তাদের এই প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ ভবিষ্যতে কমপক্ষে আরও তিনটি সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার পরামর্শ দেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের দেওয়া প্রস্তাবগুলো হলো-
১. সংবিধান সংশোধন; ২. প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার; ৩. নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন ও নির্বাচনী আইনের সংস্কার; ৪. দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার; ৫. নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন; ৬. সংসদের কার্যকারিতা; ৭. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা; ৮. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ; ৯. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং ১০. অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, রাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান আয়-বৈষম্য ও সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা।
এছাড়াও ১১. মানবাধিকার সংরক্ষণ; ১২. নারীর ক্ষমতায়ন; ১৩. তরুণদের জন্য বিনিয়োগ ও তাদের নেতৃত্বের বিকাশ; ১৪. মানসম্মত শিক্ষা; ১৫. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা; ১৬. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা; ১৭. পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা; ১৮. রাজনৈতিক দলের সংস্কারসহ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এবং ১৯. নাগরিক সক্রিয়তা।








