নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর ) রাতে প্রেসিডেন্ট ভবনে নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল কার্কিকে শপথ পাঠ করান।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারের পর রাষ্ট্রপতি পৌডেল কার্কিকে বলেন, ‘‘অভিনন্দন! আমরা আপনার সফলতা কামনা করি, দেশের সফলতা কামনা করি।’’
রাষ্ট্রপতি পৌডেল ও নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-রাষ্ট্রপতি রামসহায় যাদব ও প্রধান বিচারপতি প্রকাশ মান সিং রাওয়াত। এ সময় ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা প্রধান এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপস্থিতি ছিলেন।
কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। শপথ গ্রহণকালে রাষ্ট্রপতি পৌডেল ঘোষণা করেন, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচন ছয় মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন। এরপর দেশটির সেনাবাহিনী দফায় দফায় জেন-জি আন্দোলনকারীসহ বিভিন্ন পক্ষের সাথে সরকার গঠনের বিষয়ে বৈঠক করেন।
জেন-জি আন্দোলনকারীরা একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছেন। সেই হিসাবে সুশীলা কার্কির নাম আলোচনায় উঠে আসে।
নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন সুশীলা কার্কি। তিনি ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সরকারের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে রায় দেওয়ায় তিনি অভিশংসনের মুখেও পড়েছিলেন। তবে সরকার পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় সেই যাত্রায় তিনি অভিশংসন থেকে রেহাই পান।
সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সুশীলা। কৃষক পরিবার থেকে আসা তার পরিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিপি কৈরালার পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিল। কৈরালা ১৯৫৯ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে ১৯৭২ সালে সুশীলা মহেন্দ্র মরাং ক্যাম্পাস থেকে বিএ, ১৯৭৫ সালে বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ এবং ১৯৭৮ সালে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।








