টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ৭ দলই নিশ্চিত হয়ে গেল। অপেক্ষা শুধু ‘ডি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দলটির, যেখানে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা বাংলাদেশের। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে কাজটা সহজ করে রেখেছে টিম টাইগার্স। নেপালের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় পেলে অষ্টম দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করবে লাল-সবুজের দল। নিশ্চিত হওয়া বাকি সাত দল- ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকা।
সেন্ট ভিনসেন্টে সোমবার ভোরে নেপালের মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হবে মাঠের লড়াই। ম্যাচে জয় পেলে নির্বিঘ্নে সুপার এইটে পা রাখবে বাংলাদেশ। হেরে গেলে পানির মতো সহজ হবে না পরের রাউন্ডে ওঠা। যদিও নেপালের সুযোগ থাকবে না সুপার এইটে যাওয়ার। রানরেটে অনেকবেশি পিছিয়ে তারা।
বাংলাদেশের হার এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলে সুপার এইটের পথে এগিয়ে যাবে নেদারল্যান্ডস। তখন বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে রানরেটে এগিয়ে থাকা দলটি উঠবে শেষ আটে।
সবশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে সাত নম্বর দল হিসেবে সুপার এইটে পা রেখেছে ইংল্যান্ড। গ্রুপপর্বে নিজের শেষ দুই ম্যাচ জিতলেও ইংলিশদের তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-স্কটল্যান্ড ম্যাচের দিকে। অজিদের জয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট পেয়েছে তারাও, স্কটিশদের চেয়ে রানরেটে এগিয়ে থাকায়।
আইসিসি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে প্রতি গ্রুপের ১ ও ২ নম্বর দলের অবস্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে। সে অনুযায়ী গ্রুপ ‘এ’ থেকে ‘এ-১’ হয়েছে ভারত, ‘এ-২’তে ঠিক করা ছিল পাকিস্তানের নাম। গ্রুপ ‘বি’ থেকে ‘বি-১’ নির্ধারণ করা হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের জন্য এবং ‘বি-২’ ওয়ানডে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার জন্য।
এভাবে গ্রুপ ‘সি’ থেকে ‘সি-১’ নিউজিল্যান্ড ও ‘সি-২’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গ্রুপ ‘ডি’ তথা বাংলাদেশের গ্রুপে ‘ডি-১’ সাউথ আফ্রিকা ও ‘ডি-২’ স্থান নির্ধারণ করা ছিল শ্রীলঙ্কার জন্য। গ্রুপপর্বে যে নির্ধারিত দলগুলো সুপার এইটে যেতে পারেনি, তাদের গ্রুপ থেকে অন্য যে দলটি সুপার পর্বে উঠল, সেই দল স্থান নির্ধারণ হয়ে থাকা কোয়ালিফাই করতে না পারা দলের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসেছে।
‘ডি’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলে বর্তমানে শীর্ষে সাউথ আফ্রিকা। ৪ ম্যাচে ৪ জয়ে তাদের পয়েন্ট ৮। আগে থেকেই তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান ‘ডি-১’। অন্যদিকে ৩ ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪, অবস্থান দুইয়ে। তিনে আছে নেদারল্যান্ডস, ৩ ম্যাচে দুই হার ও এক জয়ে, পয়েন্ট ২। ৩ ম্যাচে নেপালের পয়েন্ট ১, টেবিলের ৩-এ আছে। সবার শেষে শ্রীলঙ্কা, ৩ ম্যাচে নেপালের সমান পয়েন্ট নিয়ে নেট রানরেটে পিছিয়ে চারে রয়েছে তারা। এবং এই লঙ্কানদের জন্য আগে থেকেই স্থান নির্ধারিত ছিল ‘ডি-২’।
এখন, ‘ডি’ গ্রুপ থেকে সুপার এইটে যেতে পারে বাংলাদেশ, এবং শ্রীলঙ্কা যেহেতু ইতিমধ্যেই ছিটকে গেছে, আর ডাচদের কাগজে-কলমে সম্ভাবনা আছে, তারা যদি যেতে না পারে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ এই গ্রুপ থেকে সুপার এইটে পৌঁছাবে ‘ডি-২’ হয়ে। তখন শ্রীলঙ্কার জন্য নির্ধারিত স্থানের দখল নেবে টিম টাইগার্স। যে অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপার এইটে উঠলে ‘গ্রুপ-১’তে লড়বে।
সুপার এইটে ‘গ্রুপ-১’তে পড়ছে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের পরাশক্তিগুলো। গ্রুপ ‘এ’ থেকে ‘এ-১’ ভারত, গ্রুপ ‘বি’ থেকে ‘বি-২’ অস্ট্রেলিয়া, গ্রুপ ‘সি’ থেকে ‘সি-২’ নিউজিল্যান্ড কোয়ালিফাই করতে না পারার জায়গায় আফগানিস্তান হয়েছে সুপার এইটের ‘গ্রুপ-১’ সঙ্গী। যেখানে চার দল প্রত্যেকের সাথে একটি করে ম্যাচ খেলবে।
সুপার এইটে ‘গ্রুপ-২’তে থাকছে যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকা।
এক নজরে সুপার এইটের ৭ দল ও বাংলাদেশ যে অবস্থায়
সুপার এইট গ্রুপ ১: ভারত, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ/নেদারল্যান্ডস।
সুপার এইট গ্রুপ ২: যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকা।
সুপার এইটে গেলে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ-সূচি হবে এমন-
২১ জুন: বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া (অ্যান্টিগা, সকাল ৬.৩০ মিনিট)
২২ জুন: বাংলাদেশ-ভারত (অ্যান্টিগা, রাত ৮.৩০ মিনিট)
২৫ জুন: বাংলাদেশ-আফগানিস্তান (কিংসটাউন, সকাল ৬.৩০ মিনিট)








