সোনার চামচ মুখে জন্ম হয়নি বিব্রান্ত শর্মার। জীবনের চড়াই-উৎরাইয়ের গল্পটাও সঙ্গী ছিল। ২০২০ সালে হারিয়েছেন বাবাকে। কিন্তু মাথার ওপর ছায়া হিসেবে ছিলেন বড় ভাই বিক্রান্ত শর্মা। মুখে খাবার তুলতে নিজের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিলেও বাঁচিয়ে রেখেছেন ছোট ভাইয়ের স্বপ্ন। বিব্রান্তের সাফল্যেই তৃপ্ত হচ্ছেন বড় ভাই বিক্রান্ত।
জম্মু ও কাশ্মীরের ২৩ বর্ষী অলরাউন্ডারকে নিতে লড়াইয়ে নেমেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। ২০ লাখ ভিত্তিমূল্যের বিব্রান্ত শেষে বিক্রি হয় ২.৬ কোটি রুপিতে। পুরো বিষয়টি স্বপ্নের মত মনে করছেন তিনি। এমন খুশির দিনে স্বরণ করলেন প্রয়াত বাবা সুশান্ত শর্মাকে। এতদূর আসার সব কৃতিত্ব দিলেন বড় ভাই বিক্রমকে।
‘আমার ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু বিক্রান্তের কারণে ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে পারি। তিনি পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব তুলে নেন। আমার মাধ্যমে নিজের স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছেন। সব কিছুই আমার ভাইয়ের আত্মত্যাগের কারণে হয়েছে। না হলে আজ এখানে থাকতাম না। পড়াশোনায় ভালো ছিলাম না, কিন্তু বিক্রান্ত চাইছিলেন আমি যাতে ক্রিকেটে মনোযোগ দিই।’ বলেছেন হায়দ্রাবাদের হয়ে আইপিএল খেলতে যাওয়া বিব্রান্ত।
বড় ভাই বিক্রান্তকে দেখেই ব্যাট-বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন বিভ্রান্ত। তবে ক্রিকেট খেলা শুরু করার দুই বছর পরই কিডনি বিকল হয়ে তার বাবা মারা যান। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা বিক্রান্ত ক্রিকেট ছেড়ে পারিবারিক রাসায়নিক ব্যবসা সামলান। তিনি চাইছিলেন ভাইয়ের মাধ্যমে হলেও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিব্রান্ত লিস্ট-এ ক্রিকেটে অভিষেক হলে স্বপ্ন বাড়ে বড় ভাইয়ের মনে। ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে ছোট ভাইকে অনুপ্রেরণা দেন।
আইপিএলে প্রথমবার দল পেয়ে তাই ভোলেননি বড় ভাইকে। বলেছেন প্রয়াত বাবার কথাও। নিলামের পর পরিবারের সবার মনের অবস্থাও জানিয়েছেন বিব্রান্ত। চলতি বছরে মধ্যপ্রদেশের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয়েছে তার। ২টি ম্যাচে ব্যাট হাতে এনেছেন ৭২ রান। বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৫৬.৪৩ গড়ে এনেছেন ৩৯৫ রান, ছিল ১১টি ছক্কার মার। অলরাউন্ড তারকার ছিল চারটি উইকেটও। এবার আইপিএল মাতাতে নামবেন বিব্রান্ত, খেলবেন ভাইয়ের স্বপ্ন বাঁচাতে।








