আন্তর্জাতিক

সুদান সংকট: যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েও বার বার লঙ্ঘন

সুদান সংকটের প্রভাব, যাত্রীরা বাসে উঠছে, লম্বা লাইন ও ব্যাগ বহন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

সুদান সংকটের কারণে যাত্রীরা বাসে উঠছে, লম্বা লাইন ও ব্যাগ বহন করে অপেক্ষা করছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, সুদানে যুদ্ধরত দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। চলতি মাসে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর এটি তৃতীয় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় পক্ষই স্বাধীনভাবে যুদ্ধবিরতিতে তাদের সম্পৃক্ততার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও কোনো পক্ষ এই ঘোষণা পালন করেনি। ১৫ এপ্রিল থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত হয়েছে।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে ৭২ ঘন্টার যুদ্ধবিরতিতে যাবে দুই পক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ৪৮ ঘণ্টার আলোচনার পর সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, সুদানে সহিংসতা একটি “বিপর্যয়কর দাবানল” সৃষ্টি করতে পারে যা সমগ্র অঞ্চল এবং তার বাইরেও গ্রাস করতে পারে।

সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে, যুদ্ধ-বিক্ষত রাজধানী খার্তুমের বাসিন্দাদের ঘরের ভিতরে থাকতে বলা হয়েছে এবং খাদ্য ও পানির সরবরাহ কম হচ্ছে। বোমা হামলা পানির পাইপের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত করেছে, এর ফলে কিছু মানুষ নীল নদ থেকে পানি পান করতে বাধ্য হয়েছে।

আশা করা হচ্ছে যুদ্ধবিরতি বেসামরিক নাগরিকদের শহর ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে। বিদেশী সরকারগুলোও আশা করছে এই যুদ্ধ বিরতি তাদের দেশের নাগরিকদের অব্যাহতভাবে সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দেবে।

সুদানের রাজধানীতে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর দেশগুলো তাদের কূটনীতিক এবং বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে মনোযোগী হয়েছে।

এর আগে সোমবার অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, কিছু কনভয় লোকদের সরিয়ে আনতে গিয়ে অনেককেই ডাকাতি ও লুটপাটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুদানে সম্ভাব্যভাবে তার কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনরায় শুরু করার দিকে নজর দিচ্ছে, তবে তিনি সেখানকার পরিস্থিতিকে “খুব চ্যালেঞ্জিং” হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

পর্যবেক্ষণ গ্রুপ নেটব্লকস জানিয়েছে, সুদান সাধারণ স্তরের ২ শতাংশ সংযোগসহ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ভুগছে। রবিবার রাত থেকে খার্তুমে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, অস্থিরতার কারণে সুদানী নাগরিকসহ প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে।

আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশের নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াইরত প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক দলগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে খার্তুমে সহিংসতা শুরু হয়।

কয়েকদিনের উত্তেজনার পর আরএসএফ সদস্যদের সারাদেশে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছিল, এই পদক্ষেপকে দেশটির সেনাবাহিনী একটি হুমকি হিসাবে দেখেছিল।

২০২১ সালের একটি অভ্যুত্থানের পর থেকে, সুদান একটি জেনারেল কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, যার নেতৃত্বে এই বিরোধের কেন্দ্রে ছিলেন দুই সামরিক ব্যক্তি জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহান, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং কার্যত দেশটির রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় জন তার আরএসএফের ডেপুটি ও নেতা, জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি হেমেদতি নামে বেশি পরিচিত। দেশ কোন দিকে যাচ্ছে এবং বেসামরিক শাসনের দিকে প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নিয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করেছেন।

১০ লাখ শক্তিশালী আরএসএফ’কে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা এবং তারপরে কে নতুন বাহিনীকে নেতৃত্ব দেবে, তা নিয়েই মূলত সহিংসতা শুরু হয়।

বিষয়:যুদ্ধ বিরতিসুদান
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…