লাইফস্টাইল

বিশ্ব গর্ভনিরোধক দিবস: অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ

বিশ্ব গর্ভনিরোধক দিবস: অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ

‘সন্তান হবে পরিকল্পিত পরিবারের অংশ, অনাকাঙ্ক্ষিত বোঝা নয়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে পালিত বিশ্ব গর্ভনিরোধক দিবস। প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রতিটি গর্ভধারণ যেন পরিকল্পিত হয়, তা নিশ্চিত করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য।

২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা ও গর্ভনিরোধক সামগ্রী সরবরাহে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বাল্যবিবাহের হার এখনো ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ ক্ষেত্রে অনিরাপদ গর্ভপাত হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এতে মাতৃমৃত্যু ও প্রসবকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে মোট প্রজনন হার ছিল ৬ দশমিক ৩। ২০২২ সালে তা কমে ২ দশমিক ১৫-এ নেমে আসে।

তবে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ সালের মূল্যায়নে এই হার আবার কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত দুই বছর স্বাস্থ্য খাতের পরিচালন পরিকল্পনা আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর চাহিদাভিত্তিক সরবরাহ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

ফলে পরিবার পরিকল্পনার সেবা দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা।

তিনি জানান, আগামী নভেম্বর থেকে এক বছরের জন্য একটি ২২ দফা জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মসূচিটি চলবে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।

এই কর্মসূচিতে তরুণ-কিশোরী, নবদম্পতি, পুরুষ, প্রসূতি মা এবং অনগ্রসর ও বস্তি এলাকার জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবার আওতায় আনা হবে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মেরী স্টোপস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পুরুষদের অংশগ্রহণ এখনো খুবই কম।

এর ফলে প্রজনন স্বাস্থ্য ও জন্মনিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির বড় অংশ নারীদের ওপর পড়ে বলে সংস্থাটি মনে করে।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি কপার-টি ও ইমপ্ল্যান্টের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব গর্ভনিরোধক দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক সেমিনার, শোভাযাত্রা ও প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দিবস পালন করলেই অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ কমানো সম্ভব নয়। এজন্য বাড়ি বাড়ি পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দেওয়া, নিয়মিত গর্ভনিরোধক সামগ্রীর মজুত পর্যবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে এসব সেবা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও এর সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

বিষয়:গর্ভধারণবিশ্ব গর্ভনিরোধক দিবসস্বাস্থ্যঝুঁকি
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…