দেশের ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত আসন্ন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় না যেয়ে গুচ্ছে থেকেই ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এক অংশ। এর আগে ৪ জানুয়ারি শুচ্ছ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রশাসনিক ভবনে তলা দেয় শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝালচত্বরে গুচ্ছে থাকার পক্ষে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করে।
এসময় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ইবিকে গুচ্ছে রাখার পক্ষে স্বাক্ষর করে। তার আগে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অবস্থানের জন্য এক হাজার ২০০ এর অধিক শিক্ষার্থী প্রশাসন বরাবর গণস্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি জমা দেয়।
গুচ্ছের পক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের দাবি, ইবি গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হবে। প্রতিটি ইউনিটে আলাদা আলাদা আবেদন করতে বিরাট অংকের টাকা লাগবে যা মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের পক্ষে বহন করা সম্ভব না, যেখানে গুচ্ছতে মাত্র ১৫০০ টাকাতেই আবেদন করা যাচ্ছে।
এছাড়া গুচ্ছের মাধ্যমে পরীক্ষা নিলে দেশের সকল প্রান্তের শিক্ষার্থীরা ইবিতে আসবে, যা গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে গেলে সম্ভব না। একজন শিক্ষার্থী তার বাড়ির কাছের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারে এতে তাদের সময় এবং যাতায়াতের ভোগান্তি কম হয়। গুচ্ছ থেকে ইবি বেরিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের এই ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
অন্যদিকে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা বলে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গুচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভর্তি নেয়ার ফলে দীর্ঘ সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আমাদের। আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি জগন্নাথ, খুলনা এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে গেছে। আমরা চাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভর্তি নেয়ার মাধ্যমে তার স্বকীয়তা বজায় রাখবে। আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন বন্ধ করবো না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, গুচ্ছ কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থে তিনি আমাদের অনুরোধ করেছেন। এছাড়াও আমি গতকাল এ বিষয়ে বিভিন্ন ধাপে সিরিজ আলোচনা করেছি। যারা গুচ্ছের বাইরে যেতে চায় তাদেরও যুক্তি রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আগে থেকে নিজস্ব পরীক্ষা নিতো, তারাও চায় বের হয়ে যেতে। তবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ আমাদের ভাবতে হবে।
তিনি বলেন, গুচ্ছের আগের যে অসুবিধাগুলো ছিল সেসব সমাধান করবে বলে তারা কথা দিয়েছে। তারা যে যুক্তিগুলো দিয়েছো সেটা রাষ্ট্রীয় যুক্তি। গুচ্ছ থেকে আলাদা হয়ে গেলে সব বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা পরীক্ষা নিলে টাইম ম্যানেজমেন্টে একটা অসুবিধা হবে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবো, গুচ্ছের যে ত্রুটিগুলো ছিল সেগুলো যেন সমাধান করা যায়।








