শিক্ষা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের জন্য শিক্ষার্থীদের ‘হেদায়েত সভা’

শিক্ষার্থীরা রাস্তার পাশে মানববন্ধন করে প্রশাসনের জন্য দাবি জানাচ্ছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের জন্য হেদায়েত সভায় অংশগ্রহণ করছে, মানববন্ধন ও স্লোগান দিচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের শুভ বুদ্ধির উদয় কামনা করে হেদায়েত সভা করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের ৯ দফা দাবির দুই দফা দ্রুত সময়ে সমাধানের কথা বলে ৭ দিন সময় চেয়েও প্রশাসন কোনো দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমন আয়োজন করেছে তারা।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে চবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ৩ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে কোটা বাতিল ও ভর্তি আবেদন ফি কমানোর আশ্বাস দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হেদায়েত সভা সঞ্চালন করেন আইয়্যুবুর রহমান তৌফিক। সেখানে বিভিন্ন সেশনের শিক্ষার্থীরা প্রশাসন তাদের সাথে প্রহসন করছে এই দাবিতে একত্রিত হন।

সভায় ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস অস্থিতিশীলকারী সকলকে আমার মোবারকবাদ। যৌক্তিক দাবি নিয়ে যখন আমরা প্রশাসনের কাছে গিয়েছি, তারা বলেছেন গুটিকয়েক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসটাকে অস্থিতিশীল করছে। আবেদনের শর্ত এখনও একই আছে। কোটা এবং আবেদন ফি থাকবে।

তিনি বলেন, এতদিন যাবৎ আন্দোলন করছি এবং এর মধ্যে দুইবার প্রশাসন আমাদের সাথে বৈঠক করেছে। সেখানে আমরা ১% কোটা মেনে নিয়েছিলাম। কারণ, এতে সম্মত না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হবে। তারা আমাদের থেকে ৭ দিন সময় নিয়ে বললেন দ্রুত সময়ে চেষ্টা করবে। কিন্তু তারা দাবি মেনে নেন নাই।

তৌহিদ বলেন, নিয়ম পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত আবেদন বন্ধ রাখার কথা জানালেও তারা ২০ তারিখ পর্যন্ত আবেদনের তারিখ রেখেছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়েই আবেদন করতে যদি চার হাজার টাকা লাগে তাহলে এটা জুলুম। যৌক্তিক সমাধান ও ফির মাত্রা সহনীয় করতে বলা হলো কিন্তু ৭ দিনেও কাজ হয়নি। গতকাল আমাদের বন্ধুরা একাডেমিক প্রোভিসির কাছে গেলে, তিনি বললেন, আমরা গুটিকয়েকজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছি। আজকে তাই এটাই করতে এখানে দাঁড়ালাম।

সংগীত বিভাগের ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ঈশা দে বলেন, প্রশাসন আমাদেরকে সমাধানের আশ্বাস দিলেও কালকে যখন আমরা গেলাম, তারা বলছেন, কিসের দাবি? কিসের প্রজ্ঞাপন? তখন আসলে আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তাদের দাবি, আমরা নাকি গুটিকয়েকজনের লাভের আশায় এই দাবিগুলো করেছি। অথচ আমরা তো রানিং স্টুডেন্ট। আমাদের সাথে ভর্তি ফি, কোটার কি সম্পর্ক?

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো যৌক্তিক দাবি করলেই আমরা যে শিক্ষার্থী এটা বারবার মনে করিয়ে দেয়ার কি আছে? আমরা আছি বলেই আপনারা শিক্ষক। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জন্যই তৈরি। বর্তমান ভর্তি প্রক্রিয়া শিক্ষার্থী বান্ধব নয়। কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষদের সন্তানরা কিভাবে এত টাকা ফিস দেবেন? এত টাকা লাগলে এটাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বলার প্রয়োজন দেখি না। এটাকে বরং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে দিন।

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৯ দফা হলো:
১) ভর্তি আবেদন ফি ২০০ টাকা করতে হবে।

২) পোষ্য কোটাসহ সব ধরনের অযৌক্তিক কোটা বাতিল করতে হবে।

৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু করতে হবে।

৪) বন্ধ হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা, বাড়ির দূরত্ব এবং মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ ও অতিদ্রুত নতুন দুইটি হল নির্মাণ করতে হবে। কটেজের শিক্ষার্থীদেরও হলের মেস এ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৫) ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল এক্সট্রা কারিকুলাম সংগঠনসমূহকে অফিস বরাদ্দ দিতে হবে।

৬) অনতিবিলম্বে টিএসসি নির্মাণ করতে হবে।

৭) অতি দ্রুত চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।

৮) প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল প্রদান ও অনলাইনে রেজাল্ট প্রকাশসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড অনলাইনভিত্তিক করতে হবে।

৯) সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গুপ্তহামলার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে এবং শাটল ট্রেনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিষয়:চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…