পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. ময়নুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রলীগের ভূমিকার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাদের দীর্ঘদিনের অন্যায়-অপকর্মের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই ছাত্রলীগের কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের অধিকার নেই। ছাত্রলীগের কেউ মিছিল করলে তাদের বিরুদ্ধে অন্য নিষিদ্ধ সংগঠনের মত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা তাদের অপকর্মের বিচার করবো, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের পর মিছিল করার চেস্টা করেছিল। সেখানে পুলিশের অ্যাকশন আপনারা দেখেছেন।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, পুলিশের তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করবে। পুলিশের মধ্যে কেউ যদি রাজনীতি করতে চান, ব্যবসা করতে চান-বাণিজ্য করতে চান তাহলে পুলিশের পেশা বাদ দিন। বিগত সময়ে পুলিশ নিয়োগে বেআইনী চর্চা শুরু হয়েছিল। ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্তানী করবে এবং এক পর্যায়ে তারা বিসিএস দিয়ে প্রশাসন ও পুলিশে কাজ করেছে। এতে করে পুলিশ, রাজনীতিবীদ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এসব জায়গায় পরিবর্তন করতে না পারলে ভাল প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
আমি পুলিশকে বলতে চাই, আপনারা কোন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মাধ্যমে ব্যবহার হবেন না, আর রাজনীতিবিদদের বলতে চাই- আপনারা দলীয় কাজে পুলিশকে ব্যবহার করবেন না।
তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফ্যাসিস্ট শক্তি পশুর মত ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। বিগত সরকারের আমলে যাদের অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার কথা ছিল না, তারা পেয়েছে। বৈধ অস্ত্র জনগণের বিপক্ষে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে নীতিমালা হচ্ছে।
আবু সাঈদসহ অন্যান্য মামলার বিষয়ে আইজিপি বলেন, গণঅভ্যূত্থানে ছাত্র-জনতা আহত-নিহতের ঘটনার দায়ের করা মামলাগুলো আমরা সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আবু সাঈদের মামলাটি পিবিআইয়ের এসপি পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তা তদন্ত করছে। এ মামলায় দুই পুলিশসহ ২১ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্র-জনতা আহত-নিহতের মামলাগুলো থানাসহ কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও অনেক মামলার বিচার হবে। সেখানে অনেক অভিজ্ঞরা মামলার তদন্ত করছেন। এছাড়া আমরা সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে আসামীদের তথ্য চাই। তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।
আইজিপি বলেন, কিছু নেতৃত্ব প্রদানকারী কর্মকর্তাদের কারণে পুলিশ মানুষের প্রতিপক্ষে পরিণত হয়েছে। আমরা জনগণের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তাই আমরা জনগণের আকাঙ্খার পুলিশ গঠন করতে চাই। এ লক্ষ্যে সংস্কার কমিশন কাজ করছে। পুলিশে কাঙ্খিত পরিবর্তন আসবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুরের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আজমল হোসেন, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট বাসুদেব বণিক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন, সেনা কর্মকর্তা লেঃ কর্ণেল মাসুদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুরের সমন্বয়ক ডা. জামিল হোসেন, ইমরান আহমেদ, আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন, মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুর রহমান বেলালসহ অন্যরা।
সুধী সমাবেশ শেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত-নিহত পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম কোটা পদ্ধতি সংস্কার আন্দোলনে শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তার কবর জিয়ারত শেষে পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন আইজিপি।







