আইসিসির কোনো বৈশ্বিক আসরে ১৯৯৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক। গ্রুপপর্বে পাকিস্তানকে হারিয়ে আলোড়ন তুলেছিল লাল-সবুজের দল। পরে দীর্ঘসময় পেরিয়েও টিম টাইগার্স বড় দল হয়ে উঠতে পারেনি। দলটির সাবেক কোচ স্টুয়ার্ট ল তো বলেই দিলেন, ‘২৫ বছরেও বাংলাদেশ এগোয়নি।’
টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সে বারবার সমালোচনার খোরাক হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ হারের পর সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেছে। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ততটা ভালো পারফর্ম করতে না পারার পুরনো রোগ ঝেড়ে ফেলতে পরামর্শ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারের। একইসঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর দিকেও জোর দিতে বলছেন স্টুয়ার্ট ল।
‘তারা যেভাবে সব করছে, সেটা কাজে লাগেনি। তাদের খুঁজে বের করতে হবে যে, ঠিক কী করণীয়। হয়তো বসে চিন্তা করার সময় এসেছে যে, এইভাবে আমরা এতদিন করে এসেছি, এটা কাজে আসছে না। আমরা এগিয়ে যেতে পারিনি। হয়তো আমাদের কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমানে যারা প্রশাসনে আছেন, তাদের খাটো করতে বলছি না, তবে খেলার সবদিক নিয়ে তাদের দেখা দরকার।’
বাংলাদেশের ক্রিকেট বর্তমানে যে পদ্ধতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তাতে তরুণ ক্রিকেটাররা টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের বড় শট খেলার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। এমন মত একসময় টাইগারদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্বে থাকা এ কোচের।
‘তারা শারীরিকভাবে শক্তিশালী ক্রীড়াবিদ নয়। যদিও তারা নমনীয় বলে জোরে বল করতে পারে এবং স্পিন বোলিং পারে। আমরা সবাই তা জানি। কিন্তু তারা কখনই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বা অস্ট্রেলিয়ানদের মতো শক্তিশালী অ্যাথলেট হতে পারবে না। যারা ভিন্নভাবে বেড়ে ওঠে এবং তাদের খাদ্যাভ্যাস ভিন্ন।’
ক্রিকেটারদের উন্নতির স্বার্থে করণীয় সম্পর্কেও ২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা স্টুয়ার্ট ল পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, বাংলাদেশ যদি উদীয়মান ক্রিকেটারদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস, প্রশিক্ষণের সুবিধা এবং সুযোগ দেয়, তবে দলটি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠতে পারে।
‘বাংলাদেশ যদি তরুণদের উন্নতির ধাপটা সম্পন্ন করতে পারে, ১২–১৬ বছরের মধ্যে যারা আছে তাদের খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সুস্থতার একটি ভালো ভিত্তি দিতে পারে, তাহলে বিশ্ব বাংলাদেশকে একটা ধরাছোঁয়ার বাইরের দল হিসেবে দেখতে পাবে।’
৫৫ বর্ষী ল কয়েকদিন আগে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে তার কথা, ‘সেখানে অনেক প্রতিভা আছে। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ ক্রিকেটপাগল। শুধু তাদের খুঁজে বের করে আনতে হবে এবং তাদের সামাজিক অবস্থান ও কীভাবে বেড়ে উঠল সেসব ভুলে যেতে হবে। যদি তারা সঠিক প্রতিভা খুঁজে পায় তাহলে তাদের ব্যবহার করা দরকার।’







