প্যাডেল রিকশার পরিবর্তে ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ভ্যান বন্ধ করা মানবিকভাবে অযৌক্তিক। এটি শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা সংকটাপন্ন করে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টান্ত।
সমস্যার সমাধান হলো ব্যাটারি চালিত রিকশার জন্য মানসম্মত ডিজাইন, গতি নিয়ন্ত্রণ, এবং সঠিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ড নির্ধারণ করা, যা সম্পূর্ণ সম্ভব।
দিল্লিতে পড়াকালীন দেড় বছর আমি দেখেছি, প্রধান গণপরিবহন ছিল মেট্রো এবং অটো। তবে অটোগুলো স্টেট সড়কে চলত না। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ঢাকা বা অন্যান্য উচ্চ গতির সড়কে অটোর চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত করা যেতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তির যুগে প্যাডেল রিকশায় ফিরে যাওয়ার চিন্তা নিতান্তই পশ্চাদমুখী।
মানুষ দিন দিন প্রযুক্তির সাহায্যে আধুনিক হচ্ছে, দিল্লি, ব্যাংকক, কিংবা অন্যান্য শহরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে গণপরিবহন আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী করা হয়েছে। অথচ আমরা এখনও শ্রমজীবী মানুষের জীবন সহজ করার বদলে তাদের পেশাকে কঠিন করে তুলছি। বিদ্যুতের অপচয়ের যে ভ্রান্ত যুক্তি তোলা হচ্ছে, তা আরও হাস্যকর। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ গুণ বৃদ্ধির লক্ষ্য তো শুধু এসি বা ব্যক্তিগত আরামের জন্য নয়—এটি কৃষি, শিল্প, এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।

ঢাকার মতো শহরে যানজট কমানোর কার্যকর উপায় হলো প্রাইভেট কারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, গণপরিবহনের মান উন্নয়ন, এবং শাখা সড়কগুলোতে অটোরিকশার চলাচল সীমিত রাখা। “বন্ধ করে দাও” নীতির বদলে দরকার “উন্নত করো, নিয়ন্ত্রণ করো”। এই নীতির অভাব শুধু আমাদের শহরের নয়, বরং মানসিকতার সংকীর্ণতারও প্রতিফলন।
প্রতিবাদ করার প্রয়োজন শুধু সরকারের প্রতি নয়, সমাজের অসচেতন শ্রেণীর প্রতিও, যারা কেবল নিজেদের আরাম ও সুবিধা দেখে সিদ্ধান্ত দেয়। আমরা যদি আজ কথা না বলি, ইতিহাস আমাদের মূক থাকার জন্য দায়ী করবে।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








