চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বড় ধরনের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করেছে দেশের শেয়ারবাজার। লেনদেন শুরুর মাত্র এক মিনিটের মাথায় প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়, যা প্রায় ৪ শতাংশ পতন। বাজার সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন, এক মিনিটে সূচকের এমন বড় দরপতন দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্র। বিশ্বে কোথাও যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনা দেখা দিলে তার প্রভাব দ্রুত শেয়ারবাজারে পড়ে। অতীতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছিল। এবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বাজারে বড় ধস নেমেছে। এই নেতিবাচক ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রোববার (১ মার্চ) সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই অধিকাংশ শেয়ার দরপতনের তালিকায় চলে যায়। প্রথম মিনিটেই ডিএসইএক্স ২২৩ পয়েন্ট হারায়। পরে কিছু শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সূচকের পতনের ব্যবধান কিছুটা কমে আসে।
প্রথম ঘণ্টা শেষে, অর্থাৎ বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯টি শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৫৫টির দর কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইএক্স ১২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪ পয়েন্টে নেমেছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২১ পয়েন্টে।
তবে সূচকে বড় পতন হলেও বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি একেবারে কম ছিল না। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৫১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। এর আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের অপসারণ এবং নতুন গভর্নরের ইতিবাচক বার্তার প্রভাবে বাজারে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। আগের কয়েক কার্যদিবসেও উত্থান ধারাবাহিক ছিল। তবে সেই ইতিবাচক প্রবণতার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল শেয়ারবাজার।








