দেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ–২০২৬’ ঘোষণা করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শিল্পায়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একাধিক নীতি ও প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করতে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাঙলাবিজ’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাবনাময় ১৯টি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ হিট ম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক শিল্পায়নের অংশ হিসেবে পটুয়াখালী ও যশোরে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলছে। এসব অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, চাঁদপুর ও কুয়াকাটায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রপ্তানি সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ, পিটিএ ও ইপিএ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিকস, স্বর্ণ ও হীরাসহ সম্ভাবনাময় খাতে কাস্টমস বন্ড ও শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক, বাইক ও স্কুটার উৎপাদনে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা রিফাইন্যান্সিং ফান্ড এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
এই প্যাকেজের আওতায় পাঁচটি প্রধান খাতে অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ১০ হাজার কোটি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ৫ হাজার কোটি, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি এবং কৃষি হাব উন্নয়নে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ঋণের সুদের হার ৬ শতাংশে সীমিত রাখতে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তত ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত উন্নয়নে আইডিসিওএল, বিআইএফএফএল এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের জন্য ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত মেগা বাজেটের মোট আকার দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।







