ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো একের পর এক ধ্বংস হচ্ছে সূর্যের তীব্রতা ও সৌরঝড়ের কবলে পড়ে। সৌরচক্রের ১১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর ফলে সৃষ্টজ্যো-চৌম্বকীয় ঝড় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত করছে। ফলে বায়ুমণ্ডল ফুলে উঠছে এবং স্যাটেলাইটগুলোর উপর শূন্যে চলার পথে প্রতিরোধ বেড়ে যাচ্ছে।
নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিজ্ঞানী ডেনি অলিভেইরার নেতৃত্বে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সৌরঝড়ের প্রভাবে স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলোর জীবনকাল গড়ে ১০ দিন পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। এ ধরনের সৌরঝড়ের সময় স্যাটেলাইটগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত পৃথিবীতে ফিরে আসে। এটাই প্রথমবার, যখন এতো বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট একসঙ্গে বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ছে।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, পৃথিবীর চারপাশে থাকা স্যাটেলাইটগুলো এখন একরকম স্রোতের মতো করে পৃথিবীতে ফিরে আসছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এভাবে ৫২৩টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট পুনঃপ্রবেশ করেছে। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, অদূর ভবিষ্যতে প্রতিদিনই হয়তো স্যাটেলাইট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়তে পারে।
কানাডার রেজিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামান্থা ললার বলেন, এই প্রথমবারের মতো সৌরচক্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এত বড় মেগা কনস্টেলেশন (বিশাল সংখ্যক স্যাটেলাইটের ঝাঁক) আক্রান্ত হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রভাব স্টারলিংকের জন্য যেমন বিপদজনক, তেমনি তাদের জন্য এক প্রকার সুযোগও বটে। স্যাটেলাইটগুলো যেহেতু অল্পদিনেই বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ছে, তাই সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা সম্ভব হবে, যা মহাকাশে অপ্রয়োজনীয় ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ কমাবে।
তবে এর মধ্যেই সতর্কবার্তা শুনিয়েছেন ডেনি অলিভেইরা। তার মতে, স্যাটেলাইটগুলো পুনঃপ্রবেশের সময় পুরোপুরি পুড়ে না গিয়ে অনেকাংশই মাটিতে পৌঁছাতে পারে। ২০২৪ সালের আগস্টে কানাডার সাসকাচেওয়ান অঞ্চলের এক খামারে প্রায় ৫ পাউন্ড ওজনের স্টারলিংক স্যাটেলাইটের একটি অংশ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্টারলিংকসহ অন্যান্য স্যাটেলাইট প্রকল্পগুলোর জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। না হলে সৌরঝড়ের এই তাণ্ডব মহাকাশযাত্রাকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।







