ঢাকাই সিনেমায় ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছে বেশ কয়েকটি সিনেমা। এরমধ্যে দর্শকপ্রিয়তার দিক থেকে রকস্টার ও রইদ-এর কথাই শোনা যাচ্ছে বেশী। এই দুটি সিনেমা ছাড়াও দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নির্মিত সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘বনলতা সেন’।
সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি শোবিজের বহু মানুষ সিনেমাটি দেখে ইতিবাচক মন্তব্য জানিয়েছেন। ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়াও ‘বনলতা সেন’ দেখে নিজের ভালো লাগার অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখে জানিয়েছেন।
নাম চরিত্রে মাসুমা রহমান নাবিলার প্রশংসা করে স্পর্শিয়া লিখেন,“আমার প্রিয় নাবিলাকে দিয়ে শুরু করি, নাবিলার সাথে পরিচালক এবং আমাদের কল্পনা ও কৌতূহলের বনলতার সাথে নাবিলা পুরোপুরি জাস্টিস করেছে। হোয়াট আ ক্লাসিক বিউটি শি ইজ!”
এসময় স্পর্শিয়া লিখেন,“আমি ফিল্ম ক্রিটিক না, নিজে একজন শিল্পী এবং একজন দর্শক হিসেবে আমার অনুভূতি প্রকাশ করছি, কিন্তু এই অনুভূতি অপূর্ণ থেকে যাবে যদি মাসুদ হাসান উজ্জ্বলকে ধন্যবাদ না জানাই। আপনাকে ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি তৃপ্তিময় ফিলোসফিক্যাল আর্টিস্টিক টাইম মেশিন আমাদের দেওয়ার জন্য।”
এসময় সিনেমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা সোহেল মণ্ডলকে নিয়ে স্পর্শিয়া লিখেন, “মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে..” সোহেল মণ্ডল বাংলাদেশের এক সম্পদ! বিশেষ করে তার শেষের দৃশ্যগুলোর মাঝে, কেমন এক নিজের কৈশোর মন খুঁজে পাওয়া। প্রতিটি অভিনয়শিল্পী এবং এই সিনেমার প্রতিটি কলাকুশলী, চমৎকার উপস্থাপনা উপহার দিয়েছে আমাদের। সবাইকে আন্তরিক ভালোবাসা জানাই।
সিনেমার অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার। তিনি বনলতা সেনের স্রষ্টা জীবনানন্দ দাশকে পর্দায় ফুটিয়ে লিখেছেন। তাকে নিয়ে স্পর্শিয়া লিখেন,“জীবনানন্দ দাশ, তার কবিতার মাঝে কত কত বার নিজেকে হারিয়ে ফেলে জীবনকে পাওয়া, নিজের আবেগ-অনুভূতি আবিষ্কার করা। এই যুগে জীবনানন্দ দাশকে ধারণ করে আমাদের কাছে কেউ যদি তাকে উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে সেটা শুধুমাত্র খায়রুল বাসার! তার কণ্ঠ, চোখের চাওনি, ঠোঁটের কোণায় ব্যালেন্সড হাসি, ব্যক্তি জীবনে সাহিত্যচর্চা, তার সাথে স্বচ্ছ এবং আন্তরিক মন, সব মিলিয়ে বরাবরই সে একজন দুর্দান্ত পারফর্মার। আশা রাখি তাকে আরও ইউটিলাইজ করা হোক।”
সবশেষে অভিনেত্রী লিখেন,“সব গান সবার জন্য না, সব চলচ্চিত্র সবার জন্য না। বনলতা সেন অনেকের আমার মতো যেমন ভালো লাগবে, অনেকের লাগবে না। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় থাকবে বনলতা সেন দ্য সিনেমা।”







