কয়েকদিন পরই মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ। এই ঈদকে সামনে রেখে মাংস রান্নার উপকরণ আদা থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক মসলার দাম বেড়েই চলেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুরচরা পর্যায়ে মসলার বেচা-বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে দামের কারণে ভোক্তার নাভিঃশ্বাস অবস্থা।
এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলছেন: ঈদকে ঘিরে আদাসহ দু-একটি মসলার দাম বেড়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোক্তা অধিকার অ্যাকশনে যাবে। মসলার দাম যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেদিকে নজর রয়েছে।
তিনি আরও বলেন: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে, তবে তা ধীরগতিতে। অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভোক্তা অধিকারকে বলা হয়েছে। নিত্যপণ্যের অবৈধ মজুত পেলে প্রতিষ্ঠান সিলগালাসহ জরিমানা করা হবে।
ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চাইলে অ্যাকশনে যাওয়া যায় না উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন: তারা যদি সবকিছু বন্ধ করে দেন, তবে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে। তাই আমাদের ব্যালান্স করে চলতে হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আমরা চেষ্টা করছি, যেন তারা সুযোগটা না নিতে পারেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ গত এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সব ধরণের মসলার দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাজারে যথাযথ মনিটরিং না থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাজার মনিটরিংয়ের তাগিদ তাদের।
রাজধানীর নিউমার্কেট-কারওয়ান বাজার-শাহ আলী মার্কেট বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে মসলার দামের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। বিক্রেতারা ইচ্ছে মতো দাম রাখেন, যার প্রভাব পড়ছে বাজারে। আবার বন্দরে মসলা পণ্য ছাড়ে বেশি সময় লেগে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায়, এমন অভিযোগ আমদানিকারকদের।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে: এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ মসলা জাতীয় পণ্য আমদানি করা হয়েছে তাতে করে কোরবানি ঈদ পর্যন্ত সঙ্কটের কোন শঙ্কা নেই।
কাঁচা-বাজার:
দেশের বাজারে কিছুটা কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। ব্রয়লার, সোনালি, ককসহ অন্যান্য মুরগির দাম কিছুদিন আগে বাড়লেও এখন সামান্য কমেছে। এসবের দাম কিছুটা কমলেও বাড়তি মাছের বাজার।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে: বেগুন ৬০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।
নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের আমিষের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখা পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের কই ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাচকি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, রুই ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে অপরিবর্তীত রয়েছে গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা। খাসির মাংস প্রতি কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্রয়লার ২০০ টাকা, সোনালি প্রতি কেজি ২৮০ এবং লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।
মসলার বাজারে মাস ব্যবধানে মূল্যবৃদ্ধির চিত্র:
সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে আদা-পেঁয়াজসহ বেশ কয়েক পদের মসলার দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তালিকা বলছে: বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে আমদানি (ভারত-ইন্দোনেশিয়া) করা আদা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এক মাস আগে যা প্রতিকেজি সর্বোচ্চ ২৮০ টাকা, ১ বছর আগে ৮০ থেকে ১১০ টাকা ছিলো। শুধু আদাতেই মাস ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১১৪.২৯ শতাংশ, আর বছর ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২১৫.৭৯ শতাংশ।
প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এক মাসে যার দাম ছিলো ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা প্রতিকেজি। এক্ষেত্রে মাস ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ।
মসলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ জিরা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৬০ টাকা প্রতিকেজি। এক মাস আগে যা ছিলো ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা। দাম বেড়েছে ৩২.৮ শতাংশ।
দাম বাড়ার দৌঁড়ে রয়েছে লবঙ্গ-এলাচ-দারুচিনিও। প্রতিকেজি লবঙ্গ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা, এলাচ ১৬০০ থেকে ২৮০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০ থেকে ৫২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস লবঙ্গ ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা, এলাচা ১৬০০ থেকে ২৬০০, দারুচিনি ৪১০ থেকে ৫২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিলো। এক্ষেত্রে মাস ব্যবধানে লবঙ্গ ১০.৭১, এলাচ ৪.৭৬, দারুচিনি ৪.৩ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া মসলা পণ্যের মধ্যে দাম বেড়েছে ধনিয়ার। প্রতিকেজি ধনিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। এক মাস আগে যা ছিলো ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮.২৮ শতাংশ।








