নিউইয়র্ক সিটির নতুন নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন জোহরান মামদানি। তবে তার এই পথচলা সহজ ছিল না। শহরের শীর্ষ ধনকুবেরদের একটি শক্তিশালী জোট তার প্রগতিশীল এজেন্ডা এবং ধনকুববিরোধী অবস্থানের কারণে তাকে পরাজিত করতে লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়।
৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট নেতার বিভিন্ন নীতি যেমন-বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করা, শহর পরিচালিত মুদি দোকান, বিনামূল্যে শিশু যত্ন এবং কোটিপতিদের উপর ২% ফ্ল্যাট ট্যাক্স আরোপের পরিকল্পনা ওয়াল স্ট্রিটের একাংশকে শঙ্কিত করে তোলে। মামদানি প্রকাশ্যে বিশ্বাস করেন যে, “বিলিয়নিয়ারদের অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়।”
ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনের প্রাইমারি নির্বাচনের পর থেকেই বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিলিয়নিয়ার মামদানির বিরুদ্ধে অর্থ ব্যয় শুরু করেন।
যারা মামদানিকে রুখতে অর্থ ব্যয় করেছেন
মামদানিকে পরাজিত করার জন্য যে সকল বিলিয়নেয়ার প্রাইমারি নির্বাচনের পর $১০০,০০০ ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন, এবং তাদের সম্পদের প্রধান উৎস:
- মাইক ব্লুমবার্গ: আর্থিক ডেটা ও মিডিয়া জায়ান্ট ব্লুমবার্গ এল.পি. -এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিক।
- জো গেবিয়া: জনপ্রিয় আবাসন শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
- বিল একম্যান: প্রভাবশালী হেজ ফান্ড পারশিং স্কয়ার ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও।
- রোনাল্ড লডার: প্রসাধনী ব্র্যান্ড এস্টি লডার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার ছেলে এবং এর অন্যতম উত্তরাধিকারী।
- উইলিয়াম লডার: এস্টি লডার কোম্পানির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠাতার নাতি।
- স্টিভ উইন: লাস ভেগাসের বিখ্যাত ক্যাসিনো ও হোটেল (দ্য মিরাজ, বেলাজিও) নির্মাণকারী এবং উইন রিসোর্টস -এর প্রতিষ্ঠাতা।
- ড্যানিয়েল লোয়েব: হেজ ফান্ড থার্ড পয়েন্ট -এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও।
- ব্যারি ডিলার: মিডিয়া এবং ইন্টারনেট কোম্পানি আইএসি এবং এক্সপেডিয়া গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান।
- মার্সেল্লা গুয়ারিনো হাইমোভিটজ: অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম এনট্রাস্ট গ্লোবাল-এর প্রতিষ্ঠাতা, বিলিয়নিয়ার গ্রেগ হাইমোভিটজের স্ত্রী ও সমাজসেবী।
- রিচার্ড কার্টজ: বৃহৎ রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি দ্য কামসন কর্পোরেশন -এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও।
- অ্যালিস ওয়ালটন: রিটেইল জায়ান্ট ওয়ালমার্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের কন্যা এবং কোম্পানির অন্যতম উত্তরাধিকারী।
পারশিং স্কয়ার ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সিইও বিল একম্যান একাই মামদানির বিরুদ্ধে গত এক বছরে ১.৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন।
নির্বাচনের ঠিক আগের দিন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং টেসলার সিইও ইলন মাস্ক উভয়েই মামদানির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ডেমোক্রেটিক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। ইলন মাস্ক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ “কুওমোকে ভোট দিন!” লিখে পোস্ট করেন। তবে তারা সরাসরি এই রেসে অর্থ দান করেছেন বলে জানা যায়নি।
মামদানির জয়ের পর কর্পোরেট লিডারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
জেপিমরগান চেজ-এর সিইও জেমি ডিমন সিএনএনকে বলেছেন, তিনি মামদানির জয়ের পরে নিউইয়র্কে ব্যাংকের ভবিষ্যত নিয়ে “তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত” নেবেন না। তিনি বলেন, “তিনি একজন তরুণ। তিনি কি এই কাজে দক্ষ হয়ে উঠবেন? আমি অনেককে বড় চাকরিতে, এমনকি রাজনৈতিক চাকরিতেও দেখেছি, তারা সময়ের সাথে সাথে পরিপক্ক হয়ে ওঠে।”
অন্যদিকে, বিল একম্যান, যিনি মামদানিকে হারাতে মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন, তিনি মঙ্গলবার রাতে এক্স-এ বিজয়ী মামদানিকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন: “জয়ের জন্য অভিনন্দন। আপনার এখন একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। আমি যদি নিউইয়র্ক সিটিকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, তবে জানাবেন।”
রিয়েল এস্টেট বোর্ড অফ নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট জেমস হোয়েলানও মামদানিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, “আমরা নির্বাচিত মেয়র মামদানিকে তার জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই। শহরের আবাসন সাশ্রয়ী করার সমস্যা এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরবর্তী মেয়রের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।”
উল্লেখ্য, মামদানি শহরের আবাসন সংকট মোকাবেলায় আগামী দশকে ২ লক্ষ নতুন সরকারি ভর্তুকিযুক্ত এবং ভাড়া-স্থিতিশীল বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেছেন।








