পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ষবরণ উৎসব ঘিরে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বাহিনীটির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।
সোমবার ঢাকার রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, নববর্ষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করবে। অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে।
তিনি বলেন, সারাদেশে ১৮১টি পিকআপ পেট্রোল টিম, ১২৭টি মোটরসাইকেল টিমসহ মোট ৩০৮টি টহল দল মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যদের নজরদারিও চলবে।
রাজধানীর শাহবাগ, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বাংলা একাডেমি ও রমনা বটমূলসহ গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান র্যাব প্রধান।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, “চেকপোস্ট, টহল ও অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড নিয়মিত সুইপিং কার্যক্রম চালাচ্ছে।” যেকোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, র্যাব সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সারাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য ও সাইবার মনিটরিংয়ের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নাশকতার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
নববর্ষকে কেন্দ্র করে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আসা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হয়রানি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ঝুঁকিপূর্ণ তথ্য বা হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে—অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঢাকার শ্যামলীতে চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে আটকের তথ্য দেন র্যাব প্রধান। কুষ্টিয়ায় এক ‘পীর’কে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় নজরদারি চলছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং নেতা এলেক্স ইমন হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে একাধিক মামলার আসামি বাইরে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে র্যাব ডিজি দায় নিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “অপরাধ করলে তাকে গ্রেপ্তার করাই আমাদের কাজ। বহু মামলার আসামি বাইরে কেন—এই প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের করা উচিত।”







