একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। ন্যায়পরায়ণ সমাজের জন্য নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে নারী মৈত্রী।
সেই প্রেক্ষাপটে “স্পিকার সেশন অন এমপাওয়ারিং উইমেন এন্টারপ্রেনার্স ফর এন ইকুইটেবল সোসাইটি” শীর্ষক এক বিশেষ সভা আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নারী মৈত্রী ও লেডিস অব লিবার্টি অ্যালায়েন্স (ললা)।
শনিবার ১৩ জুলাই সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁও নারী মৈত্রীর প্রধান কার্যালয়ের প্রফেসর লতিফা আকন্দ মিটিং রুমে এই সভা হয়।
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও বিশেষ কর্মসূচি বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শাহরিয়ার নাসরিন ও জয়িতা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র উদ্যোক্তা ফারজানা নাজনিন শাম্মি এবং অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন লোলা ঢাকা বাংলাদেশের চ্যাপ্টার লিডার জেড বি নিশাত।
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি বলেন, আমাদের আজকের এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য নারীদের উদ্যোক্তা সম্পর্কিত উদ্যোগ এবং নেতৃত্বের ভূমিকা অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করা, উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে ব্যবহারিক পরামর্শ এবং কৌশল প্রদান, পারস্পরিক সমর্থন এবং সহযোগিতার জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংযোগ সহজতর করা। নারী মৈত্রী সবসময়ই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এবং একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে তরুন নারী উদ্যোক্তাদের পাশে সব সময় থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
জয়িতা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র উদ্যোক্তা ফারজানা নাজনিন শাম্মি বলেন, বর্তমান যুগে নারীরা কোনভাবে পিছিয়ে নেই। পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে তারাও বিভিন্নভাবে সফলতা অর্জন করছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। একজন নারী উদ্যোক্তা হওয়ার অনেক উপায় আছে যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সফলতা নিশ্চিত। নারী উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য নিজের লক্ষ্য ও দক্ষতা শনাক্ত করা, নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলা, ব্যবসার পূর্ব পরিকল্পনা করা, দক্ষতা অর্জন করা, নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি করা এবং নিজের পরিচয় তৈরি করতে বিশেষ পরামর্শ দেন তিনি।
নারী মৈত্রী এবং ললার উদ্দ্যেশে তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে এই বিশেষ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও বিশেষ কর্মসূচি বিভাগের যুগ্ম পরিচালক শাহরিয়ার নাসরিন।
তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণার জন্য তিনি বলেন, এই ডিজিটাল যুগে হাজার হাজার সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে এক একজন নারী উদ্যোক্তা এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তারা বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ফলে সরকার নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে। নারী উদ্যোক্তারা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছে যা খুবই প্রশংসনীয়। আমি আশা রাখি আজকের তরুন উদ্যোক্তারাই একদিন আমাদের দেশে সুনাম বয়ে নিয়ে আসবে।
পাশাপাশি তিনি জানান বাংলাদেশ ব্যাংক এ রয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা তহবিল যেখানে সুদ মাত্র ৫ শতাংশ। এছাড়াও আর্থিক সাক্ষরতার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে রয়েছে নারী উদ্যোক্তা ইউনিট যেখানে নারী উদ্যোক্তারা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবে।








