বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। স্পেসএক্সের শেয়ারদর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় তার মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ৯৯২ থেকে ৯৯৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই অবস্থান হারালেন তিনি।
আজ (৭ জুলাই) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, শেয়ারদর কমলেও স্পেসএক্সের ব্যবসায়িক ভিত্তি দুর্বল হয়নি। স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার গ্রাহকসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ জোরদার করছে। সম্প্রতি ৬০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারভিত্তিক চুক্তিতে এআই কোডিং স্টার্টআপ ‘কার্সর’ অধিগ্রহণের ঘোষণাও দিয়েছে স্পেসএক্স। স্পেসএক্সের শেয়ারদর পতন ও ইলন মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা হারানোর কারণগুলো হলো-
- ব্যবসায়িক ভিত্তি দুর্বল হয়নি, কমেছে অতিরিক্ত প্রত্যাশা: স্পেসএক্সের ব্যবসায় হঠাৎ কোনো দুর্বলতা তৈরি হয়নি। বরং কোম্পানির মূল্যায়ন বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছিল।
- অতিমূল্যায়নের পর স্বাভাবিক বাজার সংশোধন: যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন অত্যন্ত বেশি হয়ে যায়, তখন শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ারও বড় ধরনের সংশোধনের মুখে পড়তে পারে।
- বাজারে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা ছিল কম: আইপিও বড় হলেও বাজারে মুক্তভাবে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের পরিমাণ সীমিত ছিল। ফলে অল্প কেনাবেচাতেই শেয়ারদরে বড় ওঠানামা হয়েছে।
- ‘কার্সর’ অধিগ্রহণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ: ৬০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারভিত্তিক অধিগ্রহণ চুক্তি ভবিষ্যতে শেয়ার ডাইলিউশন ও মূল্যায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
- ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা: বিনিয়োগকারীরা স্পেসএক্সকে শুধু মহাকাশ কোম্পানি নয়, বরং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, এআই ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করেছিলেন। ফলে প্রত্যাশা পূরণে সামান্য শঙ্কাতেই শেয়ারদর কমেছে।
- মাস্কের সম্পদের বড় অংশ স্পেসএক্সের শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল: স্পেসএক্সের শেয়ারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন সরাসরি ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
- সামনে আরও অস্থিরতা থাকতে পারে: আগস্টে ইনসাইডারদের লক-আপ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও শেয়ার বাজারে আসতে পারে, যা স্বল্পমেয়াদে শেয়ারদরে অতিরিক্ত ওঠানামার কারণ হতে পারে।
যদিও স্বল্পমেয়াদে শেয়ারদরে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে, তবুও ওয়াল স্ট্রিটের অনেক বিশ্লেষক স্পেসএক্সের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতন কোম্পানির ব্যবসায়িক দুর্বলতার নয়, বরং অতিমূল্যায়নের পর স্বাভাবিক বাজার সমন্বয়ের প্রতিফলন।

