রূপকথার জন্ম দিয়ে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলতে নামা আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পর্যাপ্ত রান বোর্ডে তুলে বোলারদের উপর আস্থা রাখতে চেয়েছিলেন। টসে জিতে আগে ব্যাটিং নিতে চেয়েছিলেন এইডেন মার্করামও। ম্যাচ শেষে এমন করতে না হওয়ায় অবশ্য স্বস্তির কথাই বললেন প্রোটিয়া দলপতি।
ম্যাচ শুরু হতেই বোঝা যায় উইকেট পেস সহায়ক। প্রোটিয়া পেসারদের সামনে ধসে পড়ে আফগান ব্যাটিং অর্ডার। ২৮ রানে হারিয়ে বসে ৬ উইকেট। ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয় দলটি আর সামলাতে পারেনি, মাত্র ৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। দেখা মেলে একপেশে সেমিফাইনালের। ৬৭ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে ফাইনালে পা বাড়ায় সাউথ আফ্রিকা।
কন্ডিশন যে খেলার শুরুতে মোটেও ব্যাটারদের অনুকূলে ছিল না, প্রোটিয়া অধিনায়ক পুরস্কার বিতরণী পর্বে স্বীকার করে নিলেন। তার কথায়, ‘ভাগ্যটা ভালো। টসে হেরে আমরা ব্যাটিং করতে পারতাম। বোলিংয়ে আমরা দুর্দান্ত ছিলাম। সঠিক জায়গায় বল ফেলে কাজটা আসলেই সহজ রেখেছিলাম।’
‘বোলাররা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য কাজ করেছে। ব্যাট হাতে এটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। কোনো ব্যাটার এই মিথ্যা বলবে না যে, এমন করা সহজ ছিল। আমরা কিছুটা ভাগ্য পেয়েছি এবং সবার অংশীদারিত্ব ছিল।’
দেশের জনগণকে আনন্দের নতুন উপলক্ষ এনে দিতে পারায় বেশ খুশি মার্করাম। চলতি আসরে সেমির আগে টানা সাত জয় পেলেও প্রতিটি ম্যাচ স্নায়ুক্ষয়ী ছিল। শেষ চারের লড়াই অবশ্য একপেশে বানাতে পেরেছে তারা।
মার্করাম বললেন, ‘আমরা কয়েকটি ক্লোজ ম্যাচ খেলেছি। বাড়িতে ফিরে কিছু লোক আরও ধূসর চুল নিয়ে তাড়াতাড়ি খেলা দেখতে জেগে উঠত। আমি খুশি কারণ জয়টা একটু বেশি স্বস্তিদায়ক ছিল।’
সাউথ আফ্রিকাকে শতবার চেষ্টা করতে না হলেও কাটাতে হয়েছে সুদীর্ঘ ৩২ বছর। অবশেষে প্রথমবার হাতে পেয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট। ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাঁচবার সেমিতে খেলে তারা ফাইনালের দেখা পায়নি। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে টি-টুয়েন্টির বিশ্বআসরে সেমিতে থামতে হয়। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দিলেন না মার্করাম। অধিনায়কের কণ্ঠে তাই স্বস্তি।
‘ফাইনালে যাওয়াটা আমাদের জন্য আরও একটা ধাপ। এটি এমন এক সুযোগ যা আমরা কখনো পাইনি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই জয়ের মূল্য অনেক। আমাদের দলে কিছু বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে। এমন পারফরম্যান্স দিতে পুরো স্কোয়াডের সক্ষমতা থাকা দরকার হয়।’








