টানা তিন অর্থবছর সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমার পর চলতি অর্থবছরে আবার বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে নিট দুই হাজার ৪৬১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এতে গত ডিসেম্বর শেষে এ খাতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকায়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মুনাফার ওপর উৎসে কর আগের মতোই ৫ শতাংশ বহাল থাকবে। ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর নতুন করে করের চাপ বাড়ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমে আসায় সঞ্চয়পত্র তুলনামূলকভাবে আবার আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সঞ্চয়পত্রের সুদহার তুলনামূলক কম হারে কমায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে। সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রি থেকে সুদ ও আসল পরিশোধের পর যে অর্থ থাকে, সেটিই নিট বিক্রি হিসেবে বিবেচিত হয়। গত তিন অর্থবছর ধরে নিট বিক্রি কম থাকায় সরকারের ঋণও হ্রাস পাচ্ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ ছিল ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১০ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে ২০২৫ সালের জুন শেষে তা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে সরকারের ঋণ কমে ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এর আগের দুই অর্থবছরেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঋণ হ্রাস পায়।
তবে চলতি অর্থবছরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকার নিয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে, দেশ থেকে অর্থ পাচার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতেও। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশে, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
এ ছাড়া, সঞ্চয়কারীদের স্বস্তি দিতে সাময়িকভাবে বাড়ানো উৎস কর প্রত্যাহার করে আগের হারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। ফলে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতোই ৫ শতাংশ হারে কর কাটা হবে।








