জুয়া ও ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৩ জনকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চায়নিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (সিএফএ)। নিষিদ্ধের তালিকায় আছেন সাউথ কোরিয়ার ফুটবলার সন জন-হো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ খেলা মিডফিল্ডার ফিক্সিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে সিএফএ’র আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন ৩২ বর্ষী তারকা। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেছেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, তোমরা আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনতে চলেছ, আমি এ ধরনের কোনকিছু করিনি।’
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সাউথ কোরিয়ার চার ম্যাচের তিনটিতে খেলেছিলেন সন। বিশ্বকাপ শেষে চীনে ফেরার পর ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে আটক করা হয়। ১০ মাস জেলে থাকার পর চলতি বছর মার্চে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
সন দাবি করেছেন, পুলিশ তাকে ভয় দেখিয়ে সব অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে। বলেছেন, ‘চীনের পুলিশ আমাকে হুমকি দিয়ে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য করেছে। তারা আমার পরিবার ও সন্তানদের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিল।’
‘তারা আমাকে এটা বলে হুমকি দেয় যে, আমি যদি সব অভিযোগ স্বীকার না করি, তাহলে আমার স্ত্রীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে একই কারাগারে নিয়ে আসবে এবং আমার সঙ্গে তারও বিচারের ব্যবস্থা করবে।’
“তারা আমার ফোন হাতে নিয়ে আমার মেয়ে ও ছেলের ছবি দেখিয়ে আমার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বলেছিল, ‘যদি তোমার স্ত্রীকেও এখানে নিয়ে আসি, তাহলে তোমার সন্তানদের দেখাশোনা করবে কে? তুমি কি চাও না সন্তানরা তাদের বাবাকে দেখুক। দ্রুত দোষ স্বীকার করো।”
চীনা পুলিশ তাকে একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, দাবি করেছেন সন। বলেছেন, ‘যদি দোষ স্বীকার করি, তাহলে দ্রুত ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমি ভীত হয়ে পড়েছিলাম। পরিবার নিয়ে চিন্তা করেছিলাম। তাই অভিযোগ স্বীকার করা ছাড়া উপায় খুঁজে পাইনি। আমি শুধু পরিবারের কাছে ফিরতে চেয়েছিলাম।’
‘আমি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে আমার নাম সরাতে চাই। তাদের কাছে একমাত্র প্রমাণ- আমার মিথ্যা স্বীকারোক্তি, যা তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুব কৌশলে আমার উপর তীব্র চাপপ্রয়োগ করে আদায় করেছিল।’
২০২১ থেকে ২০২৩ মৌসুম পর্যন্ত চায়নিজ সুপার লিগের ক্লাব শানডং তাইশানের হয়ে খেলেছেন সন। সেসময়ে ম্যাচ ফিক্সিং করেছিলেন এবং ঘুষ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ এনেছে সিএফএ। বর্তমানে সাউথ কোরিয়ান ক্লাব সুওন এফসিতে খেলছেন সন।







