টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো বাড়ি ঘরে ফিরে যাচ্ছে। এখনও চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় পানি নামতে সময় নিচ্ছে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় বেড়ে গেছে বন্যার পানি। এখনও দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধী রয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে লোকালয়ে লবণ পানি প্রবেশ করছে।
চকরিয়া উপজেলার উজানে বন্যার পানি কমলেও উপকুলীয় অঞ্চল পেকুয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে বেশ কিছু জনবসতি। একই সাথে চকরিয়া উপজেলার উপকুলীয় ৫টি ইউনিয়নে নতুন করে বন্যার পানি ঢুকেছে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মহাসড়কের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় এখনো চট্টগ্রামের সাথে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে চকরিয়া সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর মাতামুহুরী নদীর পাশ থেকে আনোয়ার হোসেন নামের একজন বয়স্ক লোকের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র আনোয়ার হোসেন ৩ দিন আগে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় ঢলের পানিতে ভেসে যায় বলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম জানিয়েছেন।খবর পেয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ মাহমুদ।
জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নেই বন্যা কবলিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার এখনও দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টি কম হওয়ায় মাতামুহুরী নদীর পানি কমলেও এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরি নদীর কমপক্ষে ১৫ টি পয়েন্টের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এসব ভাঙ্গন দিয়ে লোকালয়ে ঢলের পানি ঢুকে নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। মাতামুহুরি নদীর অববাহিকা এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। গত তিন দিনে পাহাড় ধ্বসে পানিতে ভেসে গিয়ে এবং সাপের কামড়ে চকরিয়া পেকুয়া রামু এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭ জন মারা গেছে। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন্যাা কবলিত এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। এই দুই উপজেলায় প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।








