সৌরশক্তিচালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিচ্ছেন কৃষকরা। এতে কমে গেছে বোরো ধান উৎপাদনের খরচ। স্বস্তি মিলেছে কৃষকদের মাঝে।
দিনেদিনে আধুনিক হচ্ছে ফসল উৎপাদন পদ্ধতি, ব্যবহার বেড়েছে সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্পের। বাড়তি খরচ বা ঝামেলা না থাকায় এই পাম্পের দিকে ঝুঁকছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরাও। ডিজেল চালিত যন্ত্রের সাহায্যে ধান উৎপাদনে যে খরচ হয়, সোলার সেচ পদ্ধতিতে ব্যয় হয় তার অর্ধেক। ফলে এই পাম্প ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।
শুষ্ক মৌসুমে ধান বা বোরো ফসল উৎপাদনে সেচ একটি অন্যতম বিষয়। আর এই সেচ প্রদানের জন্য ডিজেল বা বিদ্যুৎ ব্যবহারে ফসল উৎপাদন খরচ পড়ে অনেক বেশি। তা ছাড়া বর্তমানে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প পদ্ধতিতে সোলার সেচ পাম্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিচ্ছেন কৃষকরা।
বাসস জানায়, ঠাকুরগাঁও-বালিয়াডাঙ্গী সড়কের আশপাশের জমিতে সোলার প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ দিয়ে বোরো আবাদ করতে দেখা গেছে কৃষকদের। ভোগান্তি নিরসনের পাশাপাশি মাত্র ২ হাজার টাকায় ইচ্ছেমত সেচ সুবিধাসহ মাঠ থেকে মেশিন চুরির ভয় কেটেছে কৃষকের।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো আবাদ হয়েছে ৬০ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ১৪১ টি সোলার সেচ পাম্পের সুবিধা নিচ্ছেন কৃষকরা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা চিলারং ইউনিয়নের সোলার পাম্প এর সুবিধা নেয়া কৃষক রফিকুল ইসলাম ও আমির আলী জানান, আমরা সোলারের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিচ্ছি। এতে আমাদের বেরো উৎপাদন খরচ অনেক কমে গিয়েছে। বর্তমানে ১ বিঘা জমিতে সোলার পাম্প দিয়ে সেচ দিতে খরচ হচ্ছে ২ হাজার টাকা। আবার এই টাকা পরিশোধ করতে হবে ধান কেটে বিক্রি করার পরে।
একই উপজেলার আরেক কৃষক রহমত আলী জানান, এই সোলার এর মাধ্যমে সেচ দেয়ায় খরচ অনেকটা কমে আসে। এর কারণে কিছুটা হলেও লাভবান হওয়া সম্ভব।

সোলার পাম্প তৈরি ও ভাড়া দেন কৃষক সোলেয়মান আলী। তিনি বলেন, সোলারের কারণে বর্তমানে অল্প খরচে বোরো ধান রোপণ করা যাচ্ছে। শ্যালো মেশিনে তেল, মেশিন চুরি, নষ্টের ভয় ছিল ও শব্দ দূষণ হত।
সোলারের কারণে এখন আর এসব নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। আমি কৃষকের উন্নয়নে নিয়মিত চিন্তা করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমার ১৩টি সোলার পাম্প দিয়ে বোরো সেচ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। আমি এই সোলার এর পরিধি আরো বাড়াতে চাই। এছাড়াও আমার কাছ থেকে অনেকে সোলার পাম্প ক্রয় করে নিয়ে যায়।
জেলার হরিপুর উপজেলা ঢাঙ্গী পুকুর এলাকার কৃষক জুলফিকার আলী বলেন, বর্তমানে সব কছিুর দাম বেশি। সার, বিষ, ডিজেল, দৈনিক হাজিরা সব কিছু বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো আবাদ এর ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এতে পরে ধান বিক্রয় করে আমরা কৃষকরা লাভবান হতে পারি না। তবে সোলার দিয়ে এখন খরচ অনেকটাই কমে এসেছে আমাদের। এখন লাভ থাকছে সেচ খরচ কমায়। সোলারই আমাদের খরচ কমিয়ে লাভের মুখ দেখিয়েছে। এই এলাকার অনেক কৃষকদের কাছেই সোলার এখন জনপ্রিয় হয়েছে উঠেছে বলেও জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আবদুল জলিল জানান, বাজারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জেলার প্রায় ৭ হাজার কৃষক এখন সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিচ্ছেন। সোলার পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। এতে ডিজেল ও বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীলতা কমছে। সেই সাথে তাদের উৎপাদন খরচ কমে আসছে। যার ফলে বোরো ধান বিক্রি করে লাভবান হবেন এই ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষকেরা।
চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে বোরো ধানের চাষ হয়েছে ৬০ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ১৪১টি সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্পের সুবিধা নিচ্ছেন কৃষকরা।

সৌরশক্তিচালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দেয়ায় ডিজেল ও বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীলতাও কমেছে কৃষকদের। তিনি জানান- দেড় লাখ টাকা খরচে একটি সোলার পাম্প লাগিয়ে সুন্দরভাবে সেচ দেয়া সম্ভব।
তবে কৃষকরা বলছেন, সোলার পাম্পের দাম অনেক হওয়ায় তারা নিজেরা এটা কিনতে পারছেননা। অন্যের সোলার পাম্পে বিঘাতে দুই হাজার টাকা চুক্তিতে তারা নিজেদের জমিতে সেচ দিয়ে নিচ্ছেন। সোলার পাম্পের দাম কম হলে নিজেরা পাম্প কিনে নিজেদের জমিতে সেচ দিলে খরচ আরও অনেক কমে যেত। সোলার পাম্পের দাম যাতে প্রান্তিক কৃষকদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসে সে ব্যপারে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।







