এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারা উপজেলায় উদ্ভূত উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। জেলার পরিস্থিতি এখনও থমথমে। এদিকে জুম্ম ছাত্র জনতার ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চতুর্থ দিনের মতো চলছে।
যদিও সংগঠনটি গতকাল খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-ঢাকা মহাসড়কে অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছিল, তবুও কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগও কার্যত বন্ধ রয়েছে। তবে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ি শহর, শহরতলী ও গুইমারার অধিকাংশ দোকানপাট আজও খোলা হয়নি। সীমিত আকারে কিছু ইজিবাইক চলাচল করছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া স্থানীয়রা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
গুইমারা থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, সহিংসতায় নিহত তিন পাহাড়ির মরদেহ রোববার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং রাতে দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা চলছে।
এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে।
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্দেশনা তুলে নেওয়া হবে।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ির প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারি জুম্ম ছাত্র জনতার ছয় প্রতিনিধি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারসহ ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরে পাহাড়ি এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের জেরে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সহিংসতার ঘটনায় তিন পাহাড়ি নিহত হন। এসময় সেনা কর্মকর্তাসহ বহু পাহাড়ি ও বাঙালি আহত হন। গুইমারায় অগ্নিসংযোগে রামসু বাজারসহ একাধিক ঘরবাড়ি ও কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়।








