অবহেলা, অনাদরে থাকা সিরাজগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামের বর্তমান ছবি দেখলে চমকে উঠবেন যেকেউ! আউটফিল্ড বিখ্যাত মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের মতো! জেলা লিগে চমৎকার আয়োজনের পেছনের গল্পটা আরও রোমাঞ্চকর। মাত্র চার দিনের কর্মযজ্ঞে আমূল বদলে ফেলা হয়েছে মাঠটিকে। উইকেটও করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের। পিকনিক, অনুষ্ঠানের স্পট হয়ে ওঠা মাঠ এখন সিরাজগঞ্জবাসীর বড় গর্বের জায়গা।
এর পেছনের কারিগর সিরাজগঞ্জ প্রিমিয়ার লিগের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান, বিসিবি কোচ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, ‘লিগে আমি যুক্ত এ বছরই। কারণ দল নিয়ে বাইরে থাকতাম। সময় দিতে পারতাম না। এবার যিনি আয়োজন করছেন, তিনি হলেন গোলাম মোস্তফা সোহাগ (সিরাজগঞ্জ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি)। একই দলে আমরা ১২ বছর খেলেছি। তিনি আমাকে মাঠের দায়িত্ব দিয়ে বললেন নতুনত্ব আনতে, মাঠটা যেন মানুষকে আকৃষ্ট করে।’
‘বাজেট দেয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে পাশ করলেন। তারপর পরিকল্পনা শুরু। একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ভালো মাঠ। আমি নিজেও দীর্ঘ ২৪ বছর খেলাধুলা করেছি। এই মাঠটাকে কেউ ভালোবাসে না। যে যার মতো ব্যবহার করেছে, অনুষ্ঠান করেছে। পিকনিক পর্যন্ত হয় এসব মাঠে।’
‘পরিকল্পনা একমাসের। পিচের মাটি নিয়ে আসি বগুড়া থেকে। একজন কিউরেটরের সহযোগিতা নেই। বগুড়ার আমিরুল ইসলাম। ছুটির দিনে উনি এসে বিস্তারিত বর্ণনা করে দেন। মাঠ যখন পরিপূর্ণ সবুজ হয়ে গেল, তখন সবাই বলছিল এতটা প্রত্যাশা করেনি। মেলবোর্ন মাঠের একটা ছবি পেলাম। সোহাগকে দেখালাম। বললাম, এমন করার ইচ্ছা। সে পাশে দাঁড়াল।’
‘কত টাকা খরচ হবে তখনও জানি না। তিন ঘণ্টায় অনেককে ফোন করলাম, কিন্তু ইতিবাচক সাড়া পাইনি। তিনটা ছেলে এগিয়ে এলো। ওরা হল- রাসেল, প্রিন্স, রানা। চার দিনেই আমরা মেলবোর্নের আদলে রূপ দিতে পেরেছি সিরাজগঞ্জের শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়ামকে।’
গত ৬ মার্চ এসপিএল চতুর্থ আসর শুরু হয়। এবারের আসরটি জমকালো করতে রাখা হয়েছে আধুনিক নানা অনুষঙ্গ। এবার টুর্নামেন্টে মোট ছয়টি দল অংশগ্রহণ করছে। ২২ মার্চ ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে আসরের। টুর্নামেন্টে খেলছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অনেক ক্রিকেটার। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে ফাইনালে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানাবেন আয়োজকরা।







