অসুস্থ বোনের চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন রূপগঞ্জের একটি পরিবার। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী পাওনা টাকা না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে তাদের। অবশেষে জমি বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ফর্টিস এসেটস লিমিটেডের সাবেক ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রূপগঞ্জ উপজেলার বাগবের এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, পূর্বে ভুলবশত তারা ফর্টিস এসেটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। পরে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও অনুসন্ধানে তারা জানতে পারেন, পুরো ঘটনার জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রুবেল মিয়া জানান, তাদের পরিবার বাগবের মৌজার আর.এস ১৯৪ নম্বর দাগের ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি ফর্টিস এসেটস লিমিটেডের কাছে বিক্রি করেন। চুক্তি অনুযায়ী জমির একটি অংশের নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর বাকি ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল।
রুবেল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তারা জানতে পারেন কোম্পানির কাছে তাদের পাওনা টাকা সাবেক ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ গ্রহণ করলেও সেই অর্থ তাদের বুঝিয়ে দেননি। বরং তিনি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তিনি বলেন, এই টাকার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। আমার বোন গুরুতর অসুস্থ। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার হেদায়েত উল্লাহকে ‘ভূমি দস্যু’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা টাকা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, শুরুতে তারা পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে না পেরে ফর্টিস এসেটস লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে অনুসন্ধানে তারা জানতে পারেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে টাকা পরিশোধ করা হলেও সাবেক ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ তা আত্মসাৎ করেছেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর ফর্টিস এসেটস লিমিটেড ভুক্তভোগী পরিবারের বকেয়া ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে বলে জানা গেছে।








