ছাত্র আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়ে ‘দৃশ্যমাধ্যম শিল্পী সমাজ’ এর ব্যানারে বৃহস্পতিবার সকালে রাস্তায় নামের দেশের থিয়েটার, টেলিভিশন ও সিনেমার মানুষেরা। নিরীহ ছাত্র ও মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এসময় প্রতিবাদ জানান তারা।
যেখানে মামুনুর রশীদ থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের বহু দর্শকপ্রিয় মুখকে দেখা গেছে। সংহতি জানিয়ে এদিন তারকাদের ভিড়ে উপস্থিত ছিলেন এ প্রজন্মের চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ।
ছাত্রদের ন্যায্য দাবির প্রেক্ষিতে কেন নৃশংসতা তৈরী হলো, সে প্রশ্নও রেখে এই চিত্রনায়ক বলেন, “এই বাচ্চাগুলো তো কোনো অনৈতিক দাবি রাখেনি যেজন্য তাদেরকে এভাবে প্রাণ হারাতে হবে। এর বিচার যতদিন না হবে বাংলাদেশের কোনো মানুষ শান্তি পাবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘুমাতে পারছেন না জানিয়ে ‘পোড়ামন ২’ এর এই নায়ক বলেন, ‘আপনি যদি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ হন, এই যে আমাদের ছোট ভাই-বোনগুলো মারা গেল এগুলা দেখে রাতে ঘুমাতে পারবেন না। আমার তো রাতে ঘুম হয় না। এখনও কানে বাজে ‘কারও পানি লাগবে?’ এটা যতদিন মাথায় থাকবে ততদিন আমরা শান্তিতে থাকতে পারব না।’
‘আমরা যারা বিনোদন জগতে কাজ করি তারা কোনো ইনডিভিজ্যুয়ালকে দেখানোর জন্য কাজ করি না, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। আজকে যারা আমাদের প্রধান অডিয়েন্স, আমাদের ছাত্ররা- তাদের এই দুঃসময়ে আমরা যদি তাদের পাশে না দাঁড়াতে পারি তাহলে মনে হবে কেন কাজ করলাম! এর থেকে কাজ না করা ভালো। অন্য কোনো কিছু করা বেটার।’-গণমাধ্যমকে এমনটাই বলছিলেন সিয়াম।
ছাত্রদের পাশে আছেন জানিয়ে দৃঢ়তার সাথে এই তারকা বলেন,“আমার নিজের বাচ্চা আছে। আমি জানি যে আজ থেকে দশ বা পনেরো-বিশ বছর পরেও সে আজকের এই বিষয়ে জানবে, এবং ও আমাকে প্রশ্ন করবে যে ‘তুমি কী করছো?’ তখন আমি সন্তানকে বুক উঁচু করে বলতে চাই, আমি চেষ্টা করেছি। সুতরাং আমি অবশ্যই ছাত্রদের আন্দোলনে তাদের পাশে আছি।”
শুধু সিয়াম নয়, ছাত্রদের আন্দোলন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতায় নিহত ও গণগ্রেপ্তার-হয়রানির ঘটনায় এসময় নিন্দা জানান সমবেত শিল্পী সমাজ।
এতে উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশীদ, আজাদ আবুল কালাম, রওনক হাসান, পিপলু আর খান, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, আকরাম খান, শিবু কুমার শীল, অভিনেত্রী মিথিলা, আজমেরী হক বাঁধন, নির্মাতা আদনান আল রাজীব, তানিম নূর, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, ইরেশ যাকেরসহ অনেক তারকা মুখ। এছাড়াও ছিলেন ক্যামেরার পেছনের ক্রু, টেকনিশিয়ানসহ দৃশ্যমাধ্যমের অনেকে।








