লাইফস্টাইল

বিটরুট খাবেন, নাকি শুধু দেখবেন? জানুন এর পুষ্টিগুণ

বিটরুটের রস ও কাটা বিটরুটের ছবি, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: সংগৃহীত

উজ্জ্বল লাল রঙের সবজি বিটরুট শুধু খাবারের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, পুষ্টিগুণেও এটি বেশ সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ফাইবার, ফোলেট, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে বিটরুট খেলে শরীরের নানা উপকার হতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এটি রক্তনালি শিথিল করতে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে খাদ্যতালিকায় বিটরুট রাখা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

বাড়াতে পারে শরীরের কর্মক্ষমতা

ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের আগে বিটরুট খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। এর নাইট্রেট শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। ফলে দৌড়, সাইক্লিং বা দীর্ঘ সময়ের শারীরিক কর্মকাণ্ডে কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

হজমে সহায়তা করে

বিটরুটে রয়েছে খাদ্যআঁশ বা ফাইবার। পর্যাপ্ত ফাইবার খাবার হজমে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ফাইবার গ্রহণ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ

বিটরুটের উজ্জ্বল লাল রঙের অন্যতম কারণ হলো বেটালাইন নামের প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগ। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। শরীরে অতিরিক্ত অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যে উপকারী

রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তার মাধ্যমে বিটরুট হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।

প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে

বিটরুটে রয়েছে ফোলেট, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে

বিটরুটের নাইট্রেট রক্তনালির প্রসারণে সহায়তা করতে পারে, যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত চলাচল বাড়তে পারে। কিছু গবেষণায় মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহের সঙ্গেও বিটরুটের নাইট্রেটের সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কীভাবে খাবেন বিটরুট?

বিটরুট কাঁচা সালাদ হিসেবে, সেদ্ধ করে, রান্না করে কিংবা জুস বানিয়ে খাওয়া যায়। তবে জুস করলে ফাইবারের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে সম্পূর্ণ বিটরুট খাওয়াই ভালো।

বিটরুট পুষ্টিকর একটি সবজি হলেও এটি কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে বিটরুট খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা বা খাদ্যসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিষয়:বিটরুটস্বাস্থ্য

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…