তোমাদেরকে মায়রা মায়রনের বিড়ালের গল্প শুনিয়েছি। এ বিড়ালটা অদ্ভুত রকমের আচরণ করে। অন্য সাধারণ বিড়ালের মতো সে নয়। মায়রা-মায়রন নানাভাইয়ের সঙ্গে খেলা করছে আর নানাভাই তখন টেলিভিশনে বিড়ালের কার্টুন দেখছেন।
বিড়ালটা নানাভাইকে দেখছে আর হাসছে। নানাভাই হঠাৎ খেয়াল করলেন, বিড়ালটা তাদের দিকে চেয়ে মিঁয়াওমিঁয়াও করে হাসছে। নানাভাই বিড়ালটাকে বললেন, কি ব্যাপার তুমি নানা আর নাতি-নাতনির খেলা দেখে হাসছ?
তখন বিড়ালটা জবাব দিল, হ্যাঁ। নানাভাই তখন বললেন, চল তাহলে তোমার সঙ্গে খেলা করি। বিড়ালটিও বলল, চল। নানাভাই তখন বিড়ালের লেজ ধরলেন। মায়রা আর মায়রন নানাভাইয়ের পা ধরে ঝুলে পড়ল।
বিড়ালটা তখন বারান্দা দিয়ে ফুস করে উড়াল দিল আকাশে। নানাভাইও যাচ্ছে। বেশ মোটাসোটা শরীর তার কিন্তু বিড়ালটা খুব অনায়াসেই নানাভাই আর মায়রা-মায়রনকে নিয়ে আকাশে উড়ছে। বিড়ালটা উড়ছে তো উড়ছেই। উড়তে উড়তে বিড়ালটা পৌঁছে গেল এক আজব দেশে। এ দেশের নাম ওটলিং পটলিং।
এ দেশে কেউ বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। এখানে দুই ঘণ্টা থাকা যায়। এখানে নানা ধরনের খেলনা আর হরেক রকম খাবার দাবার। এখানকার খাবার আর খেলনা সবই বিনামূল্যে পাওয়া যায়, কেউ কোনো টাকা-পয়সা নেবে না। এত খেলনা আর খাবার-দাবার দেখে নানাভাই মহাখুশি, মায়রা-মায়রনও মহাখুশি।
মায়রা-মায়রন কোল ভরে খেলনা নিলো। নানাভাই খেতে খুব পছন্দ করেন। তিনি খেলনার দিকে না গিয়ে চলে গেলেন খাবারের মেন্যু দেখতে। নানাভাই খাবার দেখে খুবই উৎফুল্ল। এই চটপটি খায় তো এই আবার ফুচকা খান। লাড্ডু, বার্গার, পিজ্জা খেতে খেতে নানাভাইয়ের পেট ফুলে ঢোল হয়ে গেল।
এদিকে মায়রা-মায়রনের খাবারের দিকে কোনো আগ্রহই নেই। তারা এত খেলনা দেখে ভীষণ উচ্ছ্বসিত। হইহই করে সব খেলনা সংগ্রহ করছে। এরই মধ্যে দুই ঘণ্টা যে কখন পেরিয়ে গেছে কেউ টেরই পায়নি। তখন বিড়ালটা এসে বলল, মিঁউ, মিঁউ, চলো যাই, চলো যাই।
নানাভাই আবারও বিড়ালের লেজ ধরলেন আর মায়রা-মায়রন নানাভাইয়ের দুইপা জড়িয়ে ধরল। বিড়াল ফুস করে আকাশে উড়াল দিল। বুঝতেই পারছ বিড়ালটা কোথায় গেল। নানাভাই আবার টেলিভিশন দেখছে। সেখানে বিড়ালের কার্টুন চলছে। বিড়ালটা লাফালাফি করছে।









