ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণ করলে সৈন্যদের প্রথমে গুলি করা হবে এবং পরে প্রশ্ন করা হবে। ১৯৫২ সালের ডেনিশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী, সৈন্যদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আদেশের অপেক্ষা না করে আক্রমণকারীদের আক্রমণ করতে হবে।
ডেনমার্কের প্রভাবশালী সংবাদপত্র বার্লিস্কে ওই নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মটি এখনো কার্যকর রয়েছে।
শুক্রবার ৯ জানুয়ারি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের আগ্রহ প্রকাশ করায় এই মন্তব্য করা হয়। তিনি বলেছেন, আর্কটিক দ্বীপ অধিগ্রহণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমেরিকা যে বিকল্পগুলো বিবেচনা করছে, তার মধ্যে “সামরিক শক্তি” অন্যতম।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার, এবং আর্কটিক অঞ্চলে আমাদের প্রতিপক্ষদেরকে প্রতিহত করার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাষ্ট্রপতি এবং তার দল বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন এবং অবশ্যই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা সর্বদা কমান্ডার-ইন-চিফের হাতে একটি বিকল্প।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ডেনিশ এবং গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, রুবিও আরও স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প দ্বীপটি কিনতে চান এবং সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে চান না। এদিকে ডেনমার্ক মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠককে প্রয়োজনীয় সংলাপ হিসাবে স্বাগত জানিয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার বলেছেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে সুরক্ষিত করার জন্য যথাযথ কাজ করেনি এবং ট্রাম্প আর্কটিক অঞ্চলে আমেরিকান স্বার্থ রক্ষার জন্য “যতদূর যেতে হবে, ততদূর যেতে ইচ্ছুক।”
তবে ডেনমার্ক বারবার জোর দিয়ে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটি বিক্রয়ের জন্য নয়।
এর আগে মঙ্গলবার ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা উচিত।
সোমবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা ন্যাটো জোটের অবসান ঘটাবে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়বে।
তবে ট্রাম্পের দাবি, চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।








