এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর রাজধানীসহ সারাদেশে সহিংসতায় বিভিন্ন বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটে। বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর গণভবনে দেখা যায় সাধারণ নাগরিকদের ভীর। অনেককেই দেখা গেছে গণভবনের নানা জিনিস নিয়ে চলে যেতে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন দেয়া হয় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে। তাছাড়া সারা রাজধানী জুড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম চ্যানেল, জাতীয় স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়।


সোমবার চাঁদপুরে শেখ হাসিনার পদত্যাগ করার পর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদ এর আলোচিত চেয়ারম্যান এবং বালু খেকো সেলিম খান ও তার ছেলে নায়ক শান্ত খান গনপিটুনিতে নিহত হয়েছে। নিজ এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজারে এসে ক্ষিপ্ত জনতার মুখে পড়েন। সেখানে নিজের পিস্তল থেকে গুলি করে বেঁচে আসতে পারলেও পাশবর্তী বাগাড়া বাজারে এসে জনতার মুখোমুখি হয়। সেখানেই জনতার পিটুনিতে নিহত হয় সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান।

জয়পুরহাটে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা শেখ হাসিনা সরকারের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আক্রমণ করা হয়েছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জয়পুরহাট থানা, সদর উপজেলা পরিষদ, জয়পুরহাট পৌরসভার মেয়রের বাসাসহ বিভিন্ন সরকারি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের স্থাপনায়। ভাঙচুর করা হয় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। তবে এসব ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জ থানা ও রায়পুর থানায় দূর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে। এতে প্রায় সকল জরুরি কাগজপত্র পুড়ে গেছে। রামগঞ্জে আগুনে দুই জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদেরকে রামগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় রামগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে কিছু লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। রামগঞ্জ থানার ওসি মো. সোলায়মানকে পরে র্যাব এসে থানা থেকে উদ্ধার করেন।

টাঙ্গাইল সদরে দুই জন পুলিশ এবং ধনবাড়ী উপজেলায় একজন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন। সোমবার টাঙ্গাইল সদর থানা এবং বিকালে ধনবাড়ী থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পটুয়াখালী শহরে মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য, জেলা আওয়ামী লীগ অফিস , কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনের বাসভবন ও সেখানে অবস্থিত বিভাগীয় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিস ভেঙ্গে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামে আওয়ামী লীগ অফিস ও নেতাদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নি সংযোগের খবর পাওয়া গেছে।

কিশোরগঞ্জে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কিশোরগঞ্জের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকালে জেলা শহরের খরমপট্টি এলাকায় অবস্থিত মো. আবদুল হামিদের বাসভবনে শত শত জনতা প্রধান ফটক ভেঙ্গে বাসাটিতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় উত্তেজিত জনতা বাসার কিছু মালামাল বাইরে এনে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া বাসার বিভিন্ন মালামাল মানুষ হাতে হাতে করে নিয়ে যায়। এর আগে রোববার দুপুরে প্রথম দফায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাসভবনে বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়।
পাবনায় শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরের পর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ অর্ধশত আওয়ামী লীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীর বাড়ি ও অফিস ভাংচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এর আগে হাজার হাজার ছাত্র জনতা রাস্তায় নেমে আসে। তারা পুরো পাবনা শহরের দখল নিয়ে আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়েন। দুপুর আড়াইটার পর থেকে আন্দোলনকারী ছাত্র জনতা পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে সমবেত হতে থাকে।








