‘জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান’ দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। অপর দুই বিচারক ছিলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আশুলিয়া ও চানখারপুল হত্যাকাণ্ডের মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এই সাজার রায় হয়েছে।
প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচ দফা অভিযোগ আনে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। অন্য দিকে, আসামিরা নির্দোষ দাবি করে এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও তার আইনজীবীর মাধ্যমে খালাস চেয়েছেন।
শুনানিতে প্রসিকিউটর ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম, মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম; এছাড়া বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানরা অংশ নেন। আসামিপক্ষ থেকে আইনজীবী ছিলেন মো. আমির হোসেন (শেখ হাসিনা ও কামাল) এবং জায়েদ বিন আমজাদ (চৌধুরী আল-মামুন)।
মামলায় ৫৪ জন সাক্ষীর মধ্যে রয়েছেন প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ তার পরিবার, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম ও সাংবাদিক ড. মাহমুদুর রহমান।
আদালত গত ১০ জুলাই এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। এক পর্যায়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওই সময় আওয়ামী লীগ, তাদের সহযোগী ক্যাডার ও সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছিল। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে এসব ঘটনায় বিচার চলছে।








