সাম্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘নারী’ কবিতায় উচ্চারণ করেছেন ‘আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই। বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’
উপরে উল্লেখিত নজরুলের শ্রেষ্ঠ উচ্চারণ বর্তমানে বাংলাদেশের নর-নারীর অবস্থান ও অধিকারের জায়গায় বাস্তবে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা, সর্বত্র নেতৃত্ব প্রদান, আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক এমনকি সৃজনশীল সৃষ্টিকর্মের জগতে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও উপস্থিতি বাংলাদেশের সর্বত্র দৃশ্যমান। বাংলাদেশে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন সম্ভবপর হয়েছে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে দেশে সকল ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত হয়েছে।
শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত হয়েছে। ফলে, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, প্রশাসন, কূটনীতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারীরা অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাঙালিদের শক্তিশালী জাতিতে পরিণত করে তুলছে। গ্রাম কিংবা শহর সকল জায়গায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নিজেদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শুধু জাতীয় পর্যায়ই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
এছাড়াও জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সফল অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাঙালি নারীরা তাদের নিজেদের অনুকরণীয় করে তুলছে। আর বাংলাদেশের জনগণ মনে প্রাণে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের নারীদের এই সফলতার অন্যতম অংশীদার শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও আওয়ামী লীগ সরকার। বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে শেখ হাসিনার সময় উপযোগী, বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের জন্য আজ দেশের ঘরে কিংবা বাইরে পুরুষের সাথে নারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কর্মপরিবেশ সৃষ্টি সম্ভবপর হয়েছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড, শিক্ষায় লিঙ্গসমতা আনার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ এবং গ্লোবাল উইমেন অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে যা আমাদের দেশের নারীদের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এসবের পাশাপাশি শেখ হাসিনার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে খেলাধুলায় নারীরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল, ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলায় তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছে।
এছাড়া বিজ্ঞান গবেষণা ও বাংলাদেশের আয়ের সবচেয়ে বড় খাত পোশাক শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান অনেক।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃতে রাষ্ট্রে জনগণের মধ্যে মেধা ও মননে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সমাজের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। পিতামাতা মেয়েদের স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার জন্য স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছে এমনকি স্বামী-স্ত্রী দু’জন মিলে সমানভাবে পরিবারের জন্যে উপার্জন করছে। শেখ হাসিনার সরকারের তৈরি নারীদের উপযোগী কর্মপরিবেশের ফলে নারীরা সর্বত্র পুরুষের পাশাপাশি সমান মূল্যায়ন পাচ্ছে। ফলে, আমরা বর্তমানে দেখি, জাতীয় সংসদে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এমপি কিংবা মন্ত্রী হয়ে নারীরা জনগণের প্রকৃত চাওয়া-পাওয়াগুলোকে উপস্থাপন করছে। এমনকি নারীরা সচিবালয়ে, হাইকোর্ট কিংবা সুপ্রিমকোর্টে যথাক্রমে সচিব ও বিচারক হিসেবে নিজেদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশকে উন্নতির দিকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনার সরকারের আমলে নারীরা জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাছাড়াও বাংলাদেশের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য খাত বিদেশি রেমিটেন্স। বাংলাদেশের নারীরা বর্তমানে বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন কাজে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে দেশের রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আর এই রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খুব গুরুত্বপূর্ণ খাত।
শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের মেয়েদের দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপের বাস্তবায়ন করেছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ, কৃষিকাজ-পশুপালন-বাণিজ্যিক খামার পেশায় উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসতে নারীদের স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করছে। তাছাড়া, নারীদের শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় নয়, নারীদের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সরকারের গৃহীত সকল পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার। আজ দেশে মাতৃ মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার গৃহীত নানা পদক্ষেপের কারণে। পরিশেষে, জাতির পিতার সোনার বাংলায় শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে দেশে শতভাগ নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভবপর হয়েছে নিঃসন্দেহে। সুতরাং দেশের জনগণ বরাবরের মতো আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনেও শেখ হাসিনার সরকারকে জয় উপহার দিয়ে দেশের নারীর ক্ষমতায়নকে সমুন্নত রাখবে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








