শেখ বশির উদ্দিন। বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক অঙ্গনে একজন ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের এই ব্যবসায়িক নেতা নিজের মেধা প্রজ্ঞা এবং অনন্য অধ্যাবসায়ে দেশের বাণিজ্যিক খাতকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। গতিশীল অর্থনৈতিক ধারণা, দূরদৃষ্টি এবং যোগ্যতার মানদণ্ডে দেশের অন্যতম অগ্রসর বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সেখ বশির উদ্দিন বর্তমানে কেবল আকিজ বশির গ্রুপই নয় নেতৃত্ব দিচ্ছে গোটা দেশের অর্থনীতিকে।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অব্যাহতভাবে পড়তে থাকা অর্থনীতিকে শক্ত হাতে তুলে এনেছেন একটি স্থির অবস্থানে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, অনিয়মে ভরা আওয়ামী সরকারের পতন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল অবস্থানে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে শেখ বশির উদ্দিনের ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শেখ বশির উদ্দিন আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দিনের পুত্র।
১৯৫০ সালে বাবা শেখ আকিজ উদ্দিনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় আকিজ গ্রুপ। পরে ২০০৬ সালে আকিজ উদ্দিনের মৃত্যুর পর এ গ্রুপের দায়িত্ব নেন শেখ বশির উদ্দিন ও তার ভাই-বোনেরা। পরিরবারিক ভাবে একসাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, শেখ আকিজ উদ্দিনের ছেলে শেখ বশির উদ্দিন ২০২৩ ‘আকিজ বশির গ্রুপ’ নামে নিজস্ব কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অনন্য ব্যবসায়িক ধারণা এবং গতিশীল পরিকল্পনায় বর্তমানে সিরামিকস, টেবিলওয়্যার, বাথওয়্যার, জুট, পার্টিকেল বোর্ড, ডোরস, প্যাকেজিং, গ্লাসসহ ১৮টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন তিনি। যার বাৎসরিক টার্নওভার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা
আকিজ-বশির গ্রুপ তিনটি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বিশ্বজুড়ে ২৫টিরও বেশি দেশে পণ্য রফতানি করছে। এই প্রতিষ্ঠান ২৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
আকিজবশির গ্রুপে রয়েছে সিরামিকস, স্যানিটারি, টেবিলওয়্যার, পার্টিকেল বোর্ড, পাট, স্টিল, চাসহ ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন খাতে কার্যক্রম। যার বাৎসরিক টার্নওভার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। আকিজ-বশির গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব করছেন তার মা মনোয়ারা বেগম।
দেশের বাণিজ্যিক খাতে অনন্য অবদান রাখা সেখ বশির উদ্দিন ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর দেশের অর্থনীতির হাল ধরেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। বেহাল ব্যাংকিং খাত, হিমশিম খেতে থাকা বৈদেশিক রেমিটেন্স খাত থেকে শুরু করে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি কমাতে তিনি সুনিপুণ দক্ষতায় কাজ করে চলছেন।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সেখ বশির উদ্দিন সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসা পরিচালনা সহজীকরণে সরকারের উদ্যোগ নেন। এক সাক্ষাৎকারে শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, সরকার ব্যবসা পরিচালনা সহজীকরণে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিমালা ও প্রক্রিয়াগুলো সহজ করা হচ্ছে, যাতে তারা আরও কার্যকরভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
একই সময় তিনি ব্যবসার নামে অপকর্ম বন্ধের ঘোষণাও দেন এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রচেষ্টার কথাও জানান। এক সংবাদ সম্মেলনে সেখ বশির উদ্দিন ঘোষণা দেন, ব্যবসার নামে অপকর্ম বন্ধ করা হবে। তিনি বলেন, যারা ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক কাজ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সরকার ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যা ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও উন্নত করবে।
দায়িত্ব পাবার পরবর্তী সময়ে সেখ বশির উদ্দিন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেন। তিনি বলেন, সরকারের সব প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে, অনেক পণ্যের দাম কমেছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। দৃষ্টি দেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের দিকেও। টিসিবির কার্যক্রমে দুর্নীতি ও সংস্কারে ভূমিকা পালন করেন তার সংক্ষিপ্ত সময়ে। এ বিষেয়ে তিনি বলেন, এক কোটি পরিবারের জন্য সরকার ১২/১৪ হাজার কোটি টাকার পণ্য ক্রয় করে। আমরা এই টাকার যোগ্য ব্যবহার দেখতে চাই। এটার জন্য যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করতে চাই এবং একই সঙ্গে এই টাকায় অধিক পণ্য ক্রয় করতে চাই। সেজন্য ব্যবসায়ীদের টিসিবির কাজের সঙ্গে অংশগ্রহণ দেখতে চাই।

দেশের অর্থনীতিকে শক্ত হাতে সঠিক ধারায় ফেরাতে সেখ আকিজ উদ্দিন মুখোমুখি হয়েছেন দেশি বিদেশি নানা সংকটের। এসব ক্ষেত্রে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপও প্রশংসা পেয়েছে নানা মহলে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল স্বল্প সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতির উপাদান, ট্যারিফ, নন-ট্যারিফ বাধা ও দুই দেশের অর্থনীতির জন্য পরিপূরক পণ্যগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বল্প সময়ে এই বাণিজ্য আলোচনাও দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।
খুলনার ফুলতলা থেকে উঠে আসা শিল্পপতি শেখ আকিজ উদ্দিন শূন্য থেকে শুরু করে আকিজ গ্রুপকে গড়ে তুলেছিলেন। ছেলে সেখ বশির উদ্দিনকে ১৯৮৮ সালে ব্যবসায় নিযুক্ত হন। পড়াশোনা শেষ করে আকিজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়েছিলেন এই সফল উদ্যোক্তা। নিজের প্রতিষ্ঠান আকিজ বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যবসায়িক পরিবারে বেড়ে উঠলেও নিজেই লিখেছেন নিজের সফল পদযাত্রা। সেই ধারাবাহিকতায় সফল নেতৃত্বে সামনের দিনে তিনি দেশ এবং দেশের অর্থনীতিকেও নিয়ে যাবেন সফলতার নতুন পথে। এমনটাই প্রত্যাশা করে দেশের জনগণ।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







