অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালার আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত পুরো বলিউড। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না মাত্র ৪২ বছর বয়সেই চলে গেলেন ‘কাঁটা লাগা’ গার্ল! প্রাথমিকভাবে শোনা গিয়েছিল, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অভিনেত্রীর। কিন্তু তার পর নানা সূত্র ধরে কানাঘুষো শোনা যায়, হৃদ্রোগ নয়, ‘অ্যান্টি-এজিং’ বা বার্ধক্য রোধক চিকিৎসা করাচ্ছিলেন তিনি। তার ফলেই এই আকস্মিক মৃত্যু।
বয়সের চাকা ঘোরানোর নানা রকমের ওষুধ নিয়মিত ব্যবহার করতেন অভিনেত্রী। কিন্তু সে দিন এক বিশেষ পদ্ধতিতে ওষুধ নিতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটল এমনই জানালেন অভিনেত্রীর বান্ধবী পূজা ঘাই।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পূজা জানান, তিনিও এক কালে অভিনেত্রী ছিলেন। পেশা বদলালেও শেফালির সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়ে গিয়েছে। দুবাই নিবাসী পূজা মুম্বাই ফিরেছেন বান্ধবীর মৃত্যুর খবর পেয়ে। তার কথায়, মৃত্যুর দিন ভিটামিন সি-ফোর ট্রিপ নিয়েছিলেন শেফালি।
সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেফালির ঘনিষ্ঠ বন্ধু পূজা ঘাই জানিয়েছেন, মৃত্যুর দিন শেফালি ভিটামিন সি আইভি ড্রিপ (ইন্ট্রাভেনাস ভিটামিন সি থেরাপি নামেও পরিচিত) খেয়েছিলেন। তবে আগেই বলেছি, ভিটামিন সি গ্রহণ করা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। আমরা সবাই ভিটামিন সি খেয়ে থাকি, তাই না? আমার মনে হয় কোভিডের পর মানুষ যতটা সম্ভব নিয়মিত ভিটামিন সি খেতে শুরু করেছে এবং ভিটামিন সি এমন একটি জিনিস যা আমিও গ্রহণ করি। সুতরাং এটা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়।’
পূজা তার সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পুলিশ যখন তদন্তের জন্য শেফালির বাড়িতে পৌঁছেছিল, তখন তিনিও সেখানে ছিলেন। ‘আমি যখন সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন পুলিশ সেই ব্যক্তিকে ডেকেছিল যিনি তাকে আইভি ড্রিপ দিয়েছিলেন। শেফালি ঠিক কী ওষুধ খেয়েছিলেন তা জানার জন্য ডাকা হয় এবং তারপর পুলিশ জানতে পেরেছিলেন যে তিনি আইভি ড্রিপ নিয়েছিলেন।’ তবে পূজা এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভিটামিন সি আইভি ড্রিপস এবং অ্যান্টি-এজিং ট্রিটমেন্ট গ্রহণ করা বিনোদন দুনিয়ায় খুবই সাধারণ বিষয়।
কিন্তু কি এই আইভি ড্রিপ? ত্বকের ঔজ্বল্য ধরে রেখে শরীর সুস্থ রাখার জন্য অত্যাধুনিক উপায় আইভি বিউটি ড্রিপ। বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছে এই থেরাপি। গত বছর জুন মাসে অর্জুন কাপুরের একটি ছবি সমাজ মাধ্যমে তুমুল আলোড়ন তোলে। অভিনেতাকে হাসপাতালে শুয়ে থাকতে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ভক্তরা। পরে জানা যায়, একটি ভিটামিন থেরাপি সেশনের ছবি শেয়ার করেছেন অর্জুন। যা আর কিছুই নয়, আইভি চ্যানেল ড্রিপ।
শরীরের ভিটামিন, খনিজের ঘাটতি মেটাতে আইভি বা ইন্ট্রাভেনাস ড্রিপের মাধ্যমে সরাসরি শিরায় ঠেলে দেওয়া হয় তরল, পুষ্টি ও ওষুধ। রক্তপ্রবাহে তা মিশে যায় সহজে। এই একই কাজ শেফালি করেন। যেটি গত সাত থেকে আট বছর ধরে নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেটাই কি প্রাণঘাতী হয়ে গেল তার জন্যে! উঠছে প্রশ্ন।








