কথাশিল্পী শওকত ওসমান ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, যুক্তিবাদী, এবং শোষিত মানুষের মুক্তির প্রতীক। তার সাহিত্য আধুনিকতা, ইতিহাস-সচেতনতা এবং মানবমুক্তির বার্তা বহন করে।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে শওকত ওসমানের ১০৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শুরুতে কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ওপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, চল্লিশের দশকে যে কয়েকজন তরুণ লেখক কথা ও কবিতায় আধুনিকতা এনেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শওকত ওসমান। তার লেখালেখিতে ইতিহাস-সচেতনতা ও বাস্তবতার তীক্ষ্ণ উপস্থিতি ছিল।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. দিপু সিদ্দিকী বলেন, শওকত ওসমান সত্যিকারের বিপ্লবী ও বিদ্রোহী লেখক ছিলেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি শুধু কলমেই নয়, সভা-সেমিনারে বক্তৃতার মাধ্যমেও লড়াই করেছেন। তার রম্য রচনাগুলো সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি বাংলা একাডেমিকে শওকত ওসমানের পূর্ণাঙ্গ রচনাবলী প্রকাশের আহ্বান জানান এবং ঢাকার একটি প্রধান সড়কে তার নামে নামকরণ করার দাবি করেন।
শওকত ওসমানের কনিষ্ঠ পুত্র তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমার পিতার সততা, প্রজ্ঞা, এবং আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। তার জীবনদর্শন থেকে শিরদাঁড়া সোজা রেখে চলার শক্তি নেওয়া উচিত।
কথাশিল্পী ও সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, শওকত ওসমান ছিলেন সব্যসাচী লেখক। সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি দৈনন্দিন কলামে সাহসী সত্য প্রকাশ করতেন।
সময় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমদ বলেন, শওকত ওসমানের রচনায় শোষিত মানুষের মুক্তির কথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তা মেরিন নাজনীন।








