এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া সেঞ্চুরি, মুশফিকুর রহিমের ১৬৩ রানের ইনিংসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাচ জিতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রের শুরুটা রাঙানো হয়নি টাইগারদের। ম্যাচজুড়ে দাপট দেখিয়ে এগিয়ে থাকলেও ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে ম্যাচ। ড্র মেনে নিয়েই ২০২৫-২৭ চক্রে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
বুধবার টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। ১৫৩.৪ ওভারে ৪৯৫ রানে থামে টাইগারদের প্রথম ইনিংস। জবাবে ১৩১.২ ওভারে ৪৮৫ রানে থামে লঙ্কানদের প্রথম ইনিংস। ১০ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৮৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে টিম টাইগার্স। লঙ্কানদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৬ রান। লক্ষ্যতাড়ায় নেমে ড্রয়ের পথেই হাঁটে স্বাগতিক দলটি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৭২ রান করে ম্যাচ শেষ করে তারা। দিনের খেলা আরও ৫ ওভার হওয়া কথা ছিল। তবে আলোকস্বল্পতায় কারণে দুদলই ড্র মেনে নিয়ে খেলা শেষ করে।
৫৭ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭৭ রানে পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ১৯১ বলে ১০৯ রানের জুটি গড়েন নাজমুল। ২৩৭ রানে মুশফিক ফিরে যান রানআউট হয়ে। ১০২ বলে ৪৯ রান করে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার। এরপরই বৃষ্টি নামে। ৩ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকে খেলা। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৭৮ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৭ রান।
বৃষ্টির পর আরও ৯ ওভার খেলে ৪৮ রান যোগ করে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হলেই উইকেট হারায়। লিটন দাস ফিরে যান ৩ রান করে। জাকের আলি অনিকও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ২ রান করে ফিরে যান। পরে নাঈম হাসানকে সঙ্গী করে গল টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন শান্ত। ২০২৩ সালের এই জুনেই মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। দুবছর পর গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই স্মৃতির পূনরাবৃত্তি করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। টেস্টে শান্তর সপ্তম সেঞ্চুরি এটি।
এরপর দলীয় সংগ্রহ ২৮৫ রানে পৌঁছিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত। ৯ চার ও তিন ছক্কায় ১৯৯ বলে ১২৫ রান করেন। নাঈম অপরাজিত থাকেন ৭ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে লঙ্কানদের হয়ে থারিন্দু রত্নায়েকে ৩ উইকেট নেন। প্রবাথ জয়সুরিয়া ও মিলান রত্নায়েকে নেন একটি করে উইকেট।
২৯৬ রানের লক্ষ্যতাড়ায় নেমে ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে ৩২ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। অভিষিক্ত লাহিরু উদারা ফিরে যান ১৩ বলে ৯ রান করে। দুই বল পরেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিক দলটি। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা পাথুম নিশাঙ্কাকে ফেরান নাঈম হাসান। ২৫ বলে ২৪ রান করেন লঙ্কান ওপেনার।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে ম্যাথুজ ও দিনেশ চান্দিমাল ড্রয়ের উদ্দেশ্যে এগোতে থাকেন। তাদের ধীরগতির জুটিতে আসে ৮১ বলে ১৩ রান। ১৯.৫ ওভারে বিদায়ী ইনিংস খেলতে নামা ম্যাথুজকে ফেরান তাইজুল। ৪৫ বলে ৮ রান করেন লঙ্কান কিংবদন্তি। ২৪তম ওভারে প্রথম বলে চতুর্থ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ৪৪ বলে ৬ রান করা চান্দিমালকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান তাইজুল। পরে কামিন্দু মেন্ডিস ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা মিলে খেলা শেষ করেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ১৬ ওভারে ২৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন। নাঈম হাসান ১৩ ওভারে ২৯ রান খরচায় নেন ১ উইকেট।
এর আগে বুধবার টসে জিতে আগে ব্যাটে নেমে ১৫৩.৪ ওভার ব্যাট করে ৪৯৫ রানে থামে টাইগারদের প্রথম ইনিংস। সেঞ্চুরি করেছেন দুজন। মুশফিকুর রহিম ৯ চারে ৩৫০ বলে ১৬৩ রান করেছেন। ১৫ চার ও এক ছক্কায় ২৭৯ বলে ১৪৮ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন লিটন দাস। ১১ চার ও এক ছক্কায় উইকেটরক্ষক ব্যাটার করেন ১২৩ বলে ৯০ রান। মুমিনুল হক ৩৩ বলে ২৯, সাদমান ৫৩ বলে ১৪ রান করেন। নাঈম হাসান ৩০ বলে ১১ রান করেন।
লঙ্কান বোলারদের মধ্যে আসিথা ফের্নান্দো ২৯.৪ ওভারে ৮৬ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। ২৩.৪ ওভারে ৩৯ রান খরচায় মিলান রত্নায়েকে নেন ৩ উইকেট। ৪৯.২ ওভারে ১৯৬ রান দিয়ে থারিন্দু রত্নায়েকে নেন ৩ উইকেট।
জবাবে নেমে লঙ্কানদের প্রথম ইনিংস থামে ১৩১.২ ওভারে ৪৮৫ রানে। তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির পাশাপাশি ক্যারিয়ারসেরা ব্যাটিং করেছেন পাথুম নিশঙ্কা। ২৩ চার ও এক ছক্কায় ২৫৬ বলে ১৮৭ রান করেন। বাকিদের মধ্যে ৮ চার ও এক ছক্কায় ১৪৮ বলে ৮৭ রান করেন কামিন্দু। দিনেশ চান্দিমাল করেন ১১৯ বলে ৫৪ রান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ৩৯ এবং লাহিরু উদারা ২৯ রান করেন।
লঙ্কানদের প্রথম ইনিংসে ৪৩.২ ওভার বল করে ১২১ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন নাঈম হাসান, টাইগার স্পিনারে ক্যারিয়ারের চতুর্থবার ৫ উইকেট শিকার এটি। হাসান মাহমুদ ৩ উইকেট নেন। ২১ ওভার বল করে ৭৪ রান খরচ করেন টাইগার পেসার। তাইজুল ইসলাম ও মুমিনুল হক নেন একটি করে উইকেট।








