ভারতীয় দলের একাদশে ফিরেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন মোহাম্মাদ শামি। ধর্মশালায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেট পাওয়া ম্যাচসেরা এ পেসার নিজেকে কার্যকর প্রমাণে চালিয়েছেন কঠোর পরিশ্রম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজের ধার বাড়াতে অনুশীলনে যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
পারফরম্যান্সের উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন ডানহাতি এ পেসার। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময়ে লকডাউন চলাকালীন নিজের বাড়িতেই নেট লাগিয়ে একাই চালিয়ে যান অনুশীলন।
‘আমি নিজের ও বাংলা রাজ্যের হয়ে খেলা আমার ছোট ভাইয়ের জন্য সেই সুবিধাগুলো প্রস্তুত করেছিলাম। ব্যাপক কথা শোনা যাচ্ছিল যে লকডাউন জারি করা হবে। আমি জানতাম, কোথাও যাওয়ার সুযোগ থাকবে না এবং নিরাপদ হবে না। তাই ভেবেছিলাম আমার খামারবাড়িতে অনুশীলনের সুবিধা তৈরি করলে ভালো হবে। আমি দ্রুত সবকিছুর ব্যবস্থা নিয়ে এক মাসের মধ্যে সব প্রস্তুত করেছিলাম। লকডাউন জারির সময় অনুশীলনের সুবিধা তৈরি হয়েছিল।’
‘যখন বাড়িতে যান, আমার মনে হয় বেশিরভাগ ছেলেরা ছুটি নেয়। কখনো কখনো এমন হয়, আপনি যখন ১২ মাস ব্যস্ত থাকেন, বাড়িতে যাওয়ার পরে আরাম পান। আমি মনে করি, বাড়িতে যাওয়ার পরে আরাম পাই না। ছেলেরা দেখা করতে আসে যাতে আমরা একসাথে খেলতে পারি। অতিরিক্ত অনুশীলনটা আরও ভালো কাজে দেয়।’
টানা চার ম্যাচ ড্রেসিং রুমে বসে থেকে দর্শক হিসেবেই শামি সতীর্থদের খেলতে দেখেছেন। মাঠে নামতে না পারার দায় অবশ্য নীতি নির্বাচকদের দিতে নারাজ। সাক্ষাৎকারে জানান, একাদশ থেকে বাদ পড়াটাকে বাকিদের খেলা দেখে শেখার ভালো পন্থা বলেই মনে করেন।
‘আমি আপনাকে আগেই বলেছি, যতটা সম্ভব উপভোগ করার বিষয় আছে। আপনি যদি অন্যের সাফল্য উপভোগ করেন, তবে আরও ভালো ফলাফল পাবেন। বেঞ্চে বসে সবকিছু দেখছিলাম।’
‘আমি তখনই কিছু করবো, যখন আমাকে সুযোগ দেয়া হবে। কিন্তু দল যদি পারফর্ম করতে থাকে, ছেলেরা ছন্দে থাকে, তাহলে মনে করি না বাইরে বসে থাকার জন্য কাউকে দোষ দেয়া উচিৎ। আপনিও দলের একটা অংশ এবং বিশ্বকাপের অংশ। আমি মনে করি, প্রত্যেকের একে অপরের সাফল্য উপভোগ করা উচিৎ।’
মূলত, শার্দূল ঠাকুরের পরিবর্তে শামি খেলার সুযোগ পান। তৃতীয় পেসার হিসেবে একাদশে জায়গা পেয়েই কিউইদের দলীয় স্কোর লাগামের ভেতর রাখেন। প্রতিপক্ষের চার টপ অর্ডার ব্যাটারের তিনজনকেই সাজঘরে ফেরান ৩৩ বর্ষী ক্রিকেটার।
বাস্তবতাকে মেনে নেয়ার মানসিকতা ধারণ করা টিম ইন্ডিয়ার এ খেলোয়াড়ের ভাষ্য, ‘ভারতে সবচেয়ে বড় খেলা হল ক্রিকেট। দলে ১৫ জন খেলোয়াড় আছে। চারজনকে বাইরে থাকতে হয়। সুতরাং, ইতিবাচক এবং উপভোগ করার মাধ্যমে আমি মনে করি আপনি আরও ভালো ফলাফল পাবেন।’
‘সবসময় মনে মনে ভাবি, আমি আজ এখানে নেই। আগামীকাল এখানে থাকব। কাল না হলে পরশু। যখন সময় আসে, আপনি দলের জন্য অবদান রাখুন।’








