অ্যাডিলেড থেকে: ২০১৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে খুব কাছে গিয়ে হারের প্রসঙ্গ উঠল অ্যাডিলেডে। ৩ বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে না পারার আক্ষেপ কাটতে পারতো বিশ্বকাপ মঞ্চে একটি জয় এলেই।
ভারতের মাটিতে শেষের ভুল। আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মিডল ওভারের ব্যর্থতা। হারের ব্যবধান মাত্র ৫ রানের বলেই আক্ষেপটা বেশি। দুটি ম্যাচের মাঝে সাদৃশ্য খুব একটা নেই। তবুও ভারতকে হারানোর আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে এটা বলতে হচ্ছেই।
লিটন দাসের ক্ল্যাসিক ইনিংস জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। ৭ ওভারে উইকেট না হারিয়ে ৬৬ রান তোলা দল বৃষ্টি আইনেও পেয়েছিল জয় তোলার লক্ষ্য। ১৬ ওভারে ১৫১।
অ্যাডিলেড ওভালে ১০ উইকেট হাতে রেখে ৫৪ বলে ৮৬ রান আহামরি কিছু ছিল না। লিটনের রান আউটের পর বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। শেষে তাসকিন আহমেদের ৭ বলে ১২ ও নুরুল হাসান সোহানের ১৪ বলে ২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস আবারও আশা জাগায়। শেষ বল পর্যন্ত আশা ছিল। সোহান যদি ছক্কা মারতে পারতেন তাহলে ম্যাচ যেতো সুপার ওভারে।
ভারতকে হারাতে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। তবে লড়াইয়ের যে মানসিকতা দেখিয়েছে খেলোয়াড়রা তাতে সংবাদ সম্মেলনে সন্তুষ্টই দেখা হেল অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে।
‘আফসোস বলতে চাই না। ভারতের সঙ্গে আমরা যখনই খেলছি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে খুবই ক্লোজ যাচ্ছে ইন্টারেস্টিংলি। বেশ একটা ভালো ম্যাচ হয়। দুই টিমই চেষ্টা করে জিততে আমরা খুব কাছাকাছি যাচ্ছি। আশা করি আমরা এই ফলাফলের দিকটা পরিবর্তন করতে পারব ভবিষ্যতে। যদি আমরা এই দলটা একসাথে খেলতে পারি তাদের বিশ্বাস ছড়াবে, এত কাছে যেতে পারলে আরেকটু কেন পারব না।’
লিটনের রান আউট নিয়ে আক্ষেপ করেছেন সাকিব। তবে বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ফল যে পরিবর্তন হয়েছে এমনটা মনে করেন না তিনি।
‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে লিটন দুইবার স্লিপ করেছে। জানি না যে পিচের সাইড দিয়ে বা ঘাসের সাইড দিয়ে দৌড়াচ্ছিল কিনা। যদি প্রথমবার ওখানে স্লিপ করে থাকে পরেরবার সচেতনভাবে মাঝখান দিয়ে দৌড়ানো উচিত ছিল। আসলে ঠিক কোন জায়গায় দিয়ে দৌড়াচ্ছিল আমি দেখিনি। আমি পরের ব্যাটসম্যান ছিলাম ও আউট হওয়ার পর মাঠে নেমে গেছি বুঝতে পারিনি।’
‘ওরকম কোনো (বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দ্রুত রান তোলা) লক্ষ্য ছিল না। আমি নিশ্চিত এটা ভারতের জন্যও একই ছিল। দুই দলই চাচ্ছিল পুরো খেলাটা হোক। এটা আমাদের জন্য আদর্শ, বিশেষ করে আমি পছন্দ করি ২০ ওভারের খেলাটা যেন পুরো হয়। কোনো মুহুর্তে আমরা চিন্তা করিনি যে ডিএল (ডাক ওয়ার্থ ও লুইস) মেথড আসতে পারে। যখন বৃষ্টি হচ্ছিল আসলে এতক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল না। যেটা হয়েছে। আমরা আশাবাদী ছিলাম। পুরো ম্যাচটা হবে। যে বৃষ্টি হয়েছে সেটা মনে হয় না ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে খেলার ক্ষেত্রে কিংবা আমাদের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে। হ্যাঁ মোমেন্টাম ভালো থাকতো তবে পরের বলটা কী হবে তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না।’








