২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে পাঁচ ওয়ানডের সিরিজে খেলার জন্য বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হন মুশফিকুর রহিম। অলরাউন্ডার ফরহাদ রেজা এবং সাকিব আল হাসানের পাশাপাশি স্কোয়াডের তিন আনক্যাপড ওয়ানডে খেলোয়াড়ের একজন ছিলেন। ১৯ বছরের সেই যাত্রাটা থেমে গেছে বুধবার রাতে। ওয়ানডেকে বিদায় বলে দিয়েছেন মুশি। বাংলাদেশের রঙিন পোশাকে তার অধ্যায় এখন স্মৃতিময় অতীত। দেখে নেয়া যাক ওয়ানডেকে বিদায় বলে দেয়া ৩৭ বর্ষী মুশফিকের যত রেকর্ড।
দেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলার রেকর্ড মুশফিকের। লাল-সবুজের জার্সিতে ২৭৪ বার মাঠে নেমেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪৭ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডেতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭,৭৯৫ রান মুশফিকের, ৮,৩৫৭ রান নিয়ে সবার উপরে আছে তামিম ইকবাল। এই ফরম্যাটে ৯ সেঞ্চুরি হাকিয়েও দুইয়ে আছেন মুশফিক। ৯টি সেঞ্চুরি সাকিবেরও আছে, সর্বোচ্চ ১৪টি তামিমের।
উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ২৯৭টি ডিসমিসাল আছে মুশির ঝুলিতে। বাংলাদেশের আর কারও ১৩০টি ডিসমিসাল নেই। ওয়ানডে ইতিহাসে ডিসমিসাল সংখ্যায় মুশফিক আছেন পাঁচ নম্বরে। ৪৮২টি ডিসমিসাল করে শীর্ষে আছেন লঙ্কানদের সাবেক উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারা। পরের তিনজন যথাক্রমে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মহেন্দ্র সিং ধোনি, মার্ক বাউচার।
ওয়ানডেতে দুবার ৫টি করে ডিসমিসাল করে দেশের রেকর্ড গড়েছেন মুশি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে একবার ৫টি ডিসমিসাল পেয়েছেন শুধু খালেদ মাসুদ।
ব্যাট হাতে জুটি গড়ে সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছেন সাকিব আল হাসানের সঙ্গে। এ জুটিতে ৩,৫৪৫ রান করে দেশের ক্রিকেটে জুটির রেকর্ডের অংশ তিনি। এই জুটিতে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ৭টি সেঞ্চুরি জুটিও রয়েছে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ২,৫৭৪ রান করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটিতেও আছেন মুশফিক।
ওয়ানডেতে ১০০টি ছক্কা মেরে দেশের তিনে আছেন মুশফিক। ১০৭ ছক্কায় মাহমুদউল্লাহ সবার উপরে এবং ১০৩টি নিয়ে দুইয়ে আছে তামিম। ওয়ানতে ৬ বার সিরিজসেরার পুরস্কার পেয়েছেন মুশফিক। যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৭ বার সিরিজসেরা হয়ে উপরে শুধু সাকিব।
বাংলাদেশের জার্সিতে মুশফিকের শেষ শতক ছিল ২০২৩ সালে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে। যা এসেছিল তার ৩৫ বছর বয়সে। যা টাইগারদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে শতকের রেকর্ড ছিল। তবে সেবছর ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে শতক হাকিয়ে মাহমুদউল্লাহ রেকর্ডটি নিজের পাশে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের হয়ে দ্রুত শতকের রেকর্ডটা মুশির নামের পাশেই রয়েছে।








