রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিয়ার্ড বিফোর উইকেট সাক্ষাৎকারে এসেছিলেন সাকিব আল হাসান। কথা বলেছেন বোলিং অ্যাকশনের বিষয়ে ও আবারও জাতীয় দল জার্সিতে খেলবেন কিনা। এক পর্যায়ে জানান, ২০২৪ সালে সারের হয়ে ইংলিশ কাউন্টি খেলতে গিয়ে কিছুটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ত্রুটিযুক্ত বোলিং অ্যাকশন ব্যবহার করেছিলেন। ফলে সবরকম ক্রিকেট থেকে বোলিংয়ের উপর স্থগিতাদেশ আসে সাকিবের উপরে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সারের হয়ে একমাত্র চারদিনের ম্যাচে খেলতে নেমেছিলেন সাকিব। ম্যাচে আম্পায়াররা তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। পরে লফবরা ইউনিভার্সিটিতে সেবছর ডিসেম্বরে বোলিং অ্যাকশন শোধরানোর পরীক্ষা দেন, এবং অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হয়। পরে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড তাকে সবধরনের প্রতিযোগিতায় বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যায়।
বিয়ার্ড বিফোর উইকেট সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছেন, ‘আমি এটা কিছুটা ইচ্ছে করেই করেছিলাম, কারণ ওই ম্যাচে ৭০ ওভারের বেশি বোলিং করেছি। আমার ক্যারিয়ারে কোন টেস্ট ম্যাচেও ৭০ ওভার বল করিনি। সারের হয়ে টনটনে সমারসেটের বিরুদ্ধে চারদিনের ম্যাচ খেলছিলাম। আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম।’
‘পাকিস্তানে পরপর দুটি টেস্ট খেলেছি। সিরিজটা জিতেই সেই চারদিনের ম্যাচ খেলতে যাই। আম্পায়ার অন্তত আমাকে সেসময় সতর্ক করতে পারতেন, ভেবেছিলাম করবেন। নিয়ম আছে সেটার, তাদের অধিকারও ছিল। আমিও আর অভিযোগ করিনি।’
‘আমি পরীক্ষা দিতে গেলাম, ফেল করলাম। পরে নিজের পরীক্ষা দেখলাম। বুঝলাম কী কী সমস্যা হচ্ছে। এরপর দুই সপ্তাহ অনুশীলন করি, আবার সারেতে ফিরে যাই। তারা আমাকে সাহায্য করেছিল। দুটি সেশন করেই দেখি সব ঠিক হয়ে গেছে। মনে হল এটা তো খুব সহজ।’
গত মৌসুমে সাকিব সারের হয়ে মাত্র এক ম্যাচ খেলেছিলেন। মোট ৬৩.২ ওভার বল করেন এবং ৯ উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ৩৩.৫ ওভার এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯.৩ ওভার করেন। পরে তৃতীয় বোলিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আবারও ম্যাচ বোলিংয়ের অনুমতি পান। এরমধ্যে তিনি চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় পরীক্ষায়ও ফেল করেছিলেন, যার ফলে বিসিবি নির্বাচকরা তাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বিবেচনা করেননি বলেছিলেন। যদিও সেসময় বোর্ড জানিয়েছিল, ব্যাটার হিসেবে তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব ফরম্যাটেই খেলতে পারবেন।








