আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুই ফরম্যাটে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। টি-টুয়েন্টিতে অবসর হয়ে গেছে, আর দেশের মাটিতে শেষ টেস্টটি খেলে বিদায় নেয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তারকা অলরাউন্ডার। সেই স্বপ্ন পূরণে সাকিব দেশে ফিরলে তাকে নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বিসিবিতে রোববার সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘একজন ক্রিকেটার তিনি খেলবেন এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক, আসার ক্ষেত্রে তো কোনো বাধা দেখি না। তবে যেটা দেয়াল লিখনের কথা বলছেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু দেখেছি, এটা তো আসলে আবেগের ব্যাপার। তাদের ওই অধিকার আছে। তবে এক্ষেত্রে কারো নিরাপত্তা যেন আমরা হুমকির মুখে না ফেলি।’
‘দেশে আসা কিংবা বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা তো থাকার কথা না। আর আইনের বিষয়টা আইন মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা করতে পারবে। আমি বিশেষজ্ঞও না কিংবা আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও না। আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আসিফ নজরুল স্যার ইতিমধ্যে বলেছেন সংশ্লিষ্টতা না পেলে প্রাথমিক তদন্তেই আসলে যে মামলা হয়েছে হত্যা মামলা, ওখান থেকে নাম বাদ পড়ে যাবে।’
‘যদি আইনগত কোনো বিষয় থাকে, আইন তো আইনের গতিতে চলে। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। তো নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। যেহেতু সাউথ আফ্রিকা আসবে, আমাদের পরিবেশটাও ভালো রাখতে হবে। না হলে বাইরের দেশগুলো বাংলাদেশে খেলতে আসতে নিরাপত্তার অভাবটা অনুভব করবে।’
আগামী বুধবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা প্রোটিয়াদের। এই অবস্থায় সাকিবকে দলে রাখা প্রসঙ্গে তারা কী ভাবছেন এমন প্রশ্নে আসিফ মাহমুদ বললেন, ‘দল দেয়ার বিষয়টা তো বিসিবি দেখবে। রাষ্ট্রের জায়গা থেকে প্রত্যেক নাগরিকেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এবং ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেটা আমরা নিশ্চিত করবো।’
একদিন আগে ফেসবুক পোস্টে সাকিব বলেছেন, ‘যদিও স্বজনহারা একটি পরিবারের ত্যাগকে কোনকিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব না। সন্তান হারানো কিংবা ভাই হারানোর বেদনা কোনকিছুতেই পূরণযোগ্য নয়। এই সংকটকালীন সময়টাতে আমার সরব উপস্থিতি না থাকায় আপনারা যারা ব্যথিত হয়েছেন বা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের অনুভূতির জায়গাটার প্রতি আমার শ্রদ্ধা এবং এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
সম্প্রতি মিরপুর অঞ্চলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা কোনভাবেই সাকিবকে নিজেদের এলাকায় বা স্টেডিয়ামে খেলতে দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী একজোট হয়ে মিরপুর-শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে একত্রিত হয়েছিলেন গত ১০ অক্টোবর রাতে। সেখানে তারা নানারকম স্লোগান ও সাকিব বিরোধী গ্রাফিতি আঁকেন।








