চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উপস্থাপনায় পাঁচ বছর: জয় বললেন, ‘ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছি’

অভিনেতা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত শাহরিয়ার নাজিম জয়। ২০০৩-০৪ সালের দিকে তিনি ছিলেন ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেতাদের একজন। পরে অসংখ্য নাটকের গল্প-চিত্রনাট্য লিখেছেন। এখন পর্যন্ত তার পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছে  চারটি চলচ্চিত্র।

শুরুর দিকে মডেলিংও করতেন জয়। সর্বশেষ, শাহরিয়ার নাজিম জয় উপস্থাপক হিসেবে পেয়েছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জনপ্রিয় এ তারকা তার উপস্থাপনা ক্যারিয়ারে পাঁচ বছর পূর্ণ করলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে এই সাফল্যের আড়ালে জয় যখন পিছনে ফিরছেন, হয়ে পড়ছেন স্মৃতিকাতর! জয় যেমনটা বলছিলেন, ‘পিছনে তাকালে শূন্যতা হাহাকার দেখতে পাই। তখন অভিনেতা হয়েও সেভাবে অভিনয় করতে পারছিলাম না। নির্মাতা হিসেবেও অনিয়মিত ছিলাম। এসব কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন, তাছাড়া তৃপ্তিও পাচ্ছিলাম না। ভীষণভাবে শূন্যতায় ডুবে গিয়েছিলাম। কী করা উচিত কিছুই ভেবে পাচ্ছিলাম না।’

তেমনই এক আষাঢ়ে মেঘলা আকাশ বুকে নিয়ে পাঁচ বছর আগে উপস্থাপনায় নেমেছিলেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তিনি বললেন, আগে একবারও ভাবিনি উপস্থাপক হবো। নায়ক হতে চেয়েছি, পরিচালক, পাইলট বা বড় ব্যবসায়ী হতে চেয়েও পারিনি। কিন্তু উপস্থাপনার বিষয়ে আগে একটি বারের জন্য মাথায় আসেনি। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, আমার পুরো ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি সাফল্য অনুভব করি উপস্থাপনাতে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত ও মানুষের ভালোবাসার কারণে সম্ভব হয়েছে।’

উপস্থাপনায় এলেন কীভাবে? জয়ের উত্তর, ‘ঈদের জন্য ড. মাহফুজুর রহমানের কাছে একটি নাটক করার জন্য গিয়েছিলাম। উনি হেসে বলেছিলেন, নাটকের চেয়ে আপনি একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান করেন। শুনে অবাক হয়েছিলাম। পরে ‘সেন্স অব হিউমার’ শুরু করে বুঝেছি যে যাই বলুক না কেন, তার মতো মানুষরা যখন নেতৃত্ব দেন অবশ্যই তাদের মধ্যে একটা মধ্যে সুদূরপ্রসারী ব্যাপার থাকে। এভাবে আমার উপস্থাপনায় পথচলা শুরু। এরপর নিজের মেধায় এতটা পথ পাড়ি দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, উপস্থাপক হিসেবে আমার শুরুটা যেভাবেই হোক, আমাকে বিশ্বাস করে আমার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন ফরিদুর রেজা সাগর ভাই। যখন সাগর ভাইয়ের কাছে এসেছিলাম, তখন ‍অন্য আরেকটি টেলিভিশনে আমার জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। শুরুতে সাগর ভাই বিশ্বাস করেননি যে, চ্যানেল আইয়ে আসার কারণে সেই অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ঘটনা যে সত্যি সাগর ভাই যখন বুঝলেন তখন আমাকে বলেছিলেন, আমি যেন প্রতিদিন চ্যানেল আইয়ে শো করি।

জয়ের ভাষ্য, ‘ফরিদুর রেজা সাগর ভাই এখানেই তার উদারতা দেখিয়েছিলেন। এরপর ৩০০ সেকেন্ড, ৩ হাজার সেকেন্ড, জীবনের গল্প শুরু করি। সাগর ভাই আমাকে যে সাপোর্ট দিয়েছেন এটা আমার জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেউ আমাকে একটা কাজের পথ দেখালে এতে কী আমার জীবন চলে যাবে? আমার জীবন তখনই চলবে যখন কেউ আমাকে ২৫টি ভালো কাজের সন্ধান দেবেন। ফরিদুর রেজা সাগর ভাই আমার জন্য তাই করেছেন। এতে করে আমার নতুন করে ক্যারিয়ার তৈরি হয়েছে।’

আলাপকালে জয় জানান, গত পাঁচ বছরে তিনি দেশের বিভিন্ন সেক্টরের ১৫৬৭ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। টিভি, অনলাইন, কর্পোরেট মিলিয়ে শত শত শো করেছেন। এসবের মধ্যে তার সবচেয়ে আলোচিত অনুষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ৩০০ সেকেন্ড, সেন্স অব হিউমার, উইথ নাজিম জয়, কমন সেন্স, সেলেব্রেটি ক্যাফে, নাজিম জয় শো, তারার গল্প, ইউ টিউবার্স, জীবনের গল্প।

অভিনয়, নির্মাণে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হলেও উপস্থাপনার হট সিটে বসে জয় মনে করেন, তিনি ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছেন। বললেন, উপস্থাপনায় ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছি। একমাত্র হানিফ সংকেত স্যার ছাড়া বাকি কোনো পুরুষ উপস্থাপক উপস্থাপনায় সরব নয়। তারা সমালোচনায় সরব। একটু ১৯-২০ হলেই কেউ কেউ সমালোচনায় মাতেন। কিন্তু কখনও সঠিক পরামর্শ দেন না। যদি তাদের থেকে ভালো মন্দ পরামর্শ পেতাম, তাহলে আরো উপকার হতো।

জয় বলেন, উপস্থাপনায় হানিফ সংকেত স্যার আমার কাছে কিংবদন্তী। আব্দুন নূর তুষার ভাই অনেক কিছু জানেন। আমাকে নিয়মিত গাইড করেন। ‘জীবনের গল্প’ শো করতে গিয়ে অনেক সময় আটকে যেতাম কিন্তু তুষার ভাই আমাকে সাহায্য করতেন।

জয় বলেন, এককথায় অভিনয় ও নির্মাণের মাঠ পরিপূর্ণ। অভিনয়ে ১২ বছরের বেশি কঠিন পদচারণা ছিল। পরিচালনায় আমার চলচ্চিত্র থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এসেছে। নিয়মিত উপস্থাপনা করলেও আমি এখনও নির্মাতা। আগামীতেও সিনেমা বানাবো। প্রস্তুতি চলছে। তবে এটা পুরোপুরি সত্যি যে, উপস্থাপনায় ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছি।