৩২০ একরের বিশাল ক্যাম্পাস, প্রবেশেই সড়কের দু’পাশে জলরাশির বিশাল লেক। কোথাও ইটের দেয়ালে ভবন আবার কোথাও সবুজ মাঠের সমারোহ। শীতের কুয়াশার পাশাপাশি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ঢুকতেই নজর কাড়ে নতুন ফসলে ক্যাম্পাস ছেঁয়ে যাবার অপরুপ দৃশ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এবং গ্রামীণ জীবনের ছোঁয়া নেমেছে ক্যাম্পাসে। আধুনিকতার মাঝে যখন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ব্যস্ত, তখন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কোণে বিসৃত ধানখেতে কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম যেন এক ভিন্ন আঙ্গিকে ক্যাম্পাসের প্রাণ হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পতিত জমিতে কৃষকরা ধান চাষ করছেন। এটা শুধু তাদের জীবিকার উৎস নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি মনোরম দৃশ্য। এই চিত্রটি গ্রামবাংলার শাশ্বত রূপকে তুলে ধরে শহুরে পরিবেশে, যেখানে কৃষি ও পরিবেশ সচেতনতা শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর আইআইসিটি ভবনের পেছনে বা ছাত্রীহলের রাস্তার পাশে, ইউনিভার্সিটি সেন্টার (ইউসি) বা কেন্দ্রীয় মাঠের পাশে অথবা সৈয়দ মুজতবা আলী হলের পাশ দিয়ে গেলেই চোখে পড়ে বিস্তৃত ধানখেতে। একটু কাছে গেলেই চোখে পড়ে কৃষকরা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আইআইসিটি ভবনের পেছনের ধানখেতে কথা হয় কৃষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, এবার আট একর জমিতে ধান চাষ করছেন তিনি। কিছু জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন শাকসবজিও চাষ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই তিনি এবং তার পূর্বপুরুষরা এই জমিতেই ধান চাষ করে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জমির মালিকানাও তাদের ছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ে থাকা ৩৭৫ বিঘা জমি লিজ দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিবেশী কৃষকরা আর্থিক লাভবান হচ্ছেন। তবে কৃষকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা সেচের তেমন কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের সার ও সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো, তাহলে তারা আরও ভালো ফসল ফলাতে পারতেন। বর্তমানে আইআইসিটি ভবনের ব্যবহৃত জমা হওয়া পানি দিয়েই ফসল চাষ করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে গ্রামবাংলার দৃশ্য দেখে আনন্দিত। বন ও পরিবেশবিদ্যা বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল হাসান বলেন, ‘ক্যাম্পাসের চারদিকে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ গ্রামবাংলার দৃশ্যই ফুটিয়ে তোলে। ক্লান্তিকর ক্লাস শেষে এ রকম দৃশ্য মনে প্রশান্তি আনে। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ রকম সিদ্ধান্ত প্রতিবেশী কৃষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।’
গণিত বিভাগের স্নাতকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অরণ্য শাহরিয়ার বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় পতিত জমি ব্যবহার করে ধান ও অন্য ফসল চাষ একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। এই উদ্যোগ ক্যাম্পাসে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আনতে ও শিক্ষার্থীদের কৃষি ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হাসনাত বলেন, ‘কৃষকদের প্রতি আমাদের পরামর্শ থাকবে, তারা যেন ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করেন। এতে ফসলের পাশাপাশি জমিরও ক্ষতি হয়। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার পাশাপাশি অনুমতি নিয়ে কিছু জমিতে ফসল চাষ করতে পারেন।’








