রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষের কাটা হাত, পা ও মাথার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর নগরজুড়ে সাইকেলে করে সাত টুকরো খণ্ডিত দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে তারই রুমমেট শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আজ রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশীদ।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে রুমমেট ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে শাহীন।
পরে রাত ৯টার পর খণ্ডিত লাশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যাতায়াত করছিল।
পুলিশ জানায়, নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররম মসজিদের একটি গেটের পাশে একটি পা এবং কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথা ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া মতিঝিল এলাকায় ময়লার কনটেইনারে ড্রামভর্তি দেহাংশ পাওয়া যায়। বাকি অংশ আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শাহীন। একটি অংশ এরই মধ্যে উদ্ধার হলেও আরেকটি অংশের সন্ধানে অভিযান চলছে।
ঘটনার বর্ণনায় ডিসি বলেন, হত্যার আগে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সিগারেট আনা, খাবার কেনা ও রাতে উচ্চস্বরে কথা বলা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়।
একপর্যায়ে গালিগালাজের জেরে শাহীন ক্ষিপ্ত হয়ে গোসলখানায় কাপড় ধোয়ার সময় চাপাতি দিয়ে ওবায়দুল্লাহর ঘাড় ও গলায় আঘাত করে হত্যা করে। শুধু ঝগড়া নয়, অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়েও দ্বন্দ্ব ছিল বলে দাবি করেছে শাহীন। সে জানায়, বিষয়টি সে মেনে নিতে পারতো না এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে আগেও বিরোধ হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাইকেলে করে দেহাংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। শাহীন নিজেও হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার তাতার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি ফ্ল্যাটে শাহীন আলমের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে কাজ করতেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।







